০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আল জাজিরার প্রতিবেদন

সৌদি আরবে ফের হামলার শঙ্কা, দেশ ছাড়ছেন ফুটবলাররা!

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৩:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ক্রীড়াঙ্গনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। হামলার হুমকি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে ফুটবলের সূচিতেও।

সৌদি প্রো লিগের একাধিক ম্যাচের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন ফুটবলারের সৌদি আরব ছাড়ার খবরও পাওয়া গেছে।তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জটিলতায় সৌদি প্রো লিগের নবম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আল আহলি ও আল নাসরের ম্যাচে। চলতি সপ্তাহান্তে ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ৬ মার্চ ২০২৭ তারিখে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আল রিয়াদ ও আল হিলাল এবং আল ইত্তিহাদ ও আল শাবাবের ম্যাচ দুটি পিছিয়ে ১৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাতায়াতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিমানযাত্রার পর খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাও সূচি পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

বিকল্প হিসেবে রিয়াদ ও জেদ্দার মধ্যে বাসে দলগুলোকে যাতায়াত করানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে এই পথে যাত্রায় ১১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে বলে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। আপাতত ওই দিনের বাকি ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচিতেই হওয়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগেও। সোমবার আল নাসর ও উজবেকিস্তানের নেফতচি ফারগানার ম্যাচটি সৌদি রাজধানীতে হামলার হুমকির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয়।

পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও মাঠে নেমেছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল। ম্যাচে গোল করে দলকে জেতান পর্তুগিজ তারকা। খেলা শেষে সৌদি আরবের রঙের স্কার্ফ হাতে উদ্‌যাপন করেন তিনি। নিজের জার্সিতে দেশটির প্রতীকেও চুমু খান রোনালদো। সংকটের মধ্যে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে তার এই আচরণকে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ এবং ১ থেকে ১৫ জানুয়ারি আয়োজনের সূচি থাকা ডাকার র‍্যালিও সংঘাতের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

এদিকে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের টেনিস প্রতিযোগিতা সিক্স কিংস স্ল্যাম পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্লোস আলকারাজ, নোভাক জোকোভিচ, আলেকজান্ডার জভেরেভ, টেলর ফ্রিটজ, অ্যালেক্স দে মিনর ও লার্নার টিয়েনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই প্রতিযোগিতায়।

সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির সভাপতি তুর্কি আলালশিখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ২১ থেকে ২৪ অক্টোবরের পরিবর্তে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর।

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি হয়, যাতে ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এই হামলাতেই ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারান। পরদিন একই বিমানবন্দরে পুনরায় হামলা চালানো হয় এবং ১ জন নিহত হন।

সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর আগে ৬, ৭ এবং ৮ অক্টোবরও সৌদির আভা এবং রিয়াদের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে পৃথক পৃথক হামলা চালানো হয়েছিল। সবগুলো হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেন ভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীরা।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

আল জাজিরার প্রতিবেদন

সৌদি আরবে ফের হামলার শঙ্কা, দেশ ছাড়ছেন ফুটবলাররা!

আপডেট সময় ০৩:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ক্রীড়াঙ্গনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। হামলার হুমকি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে ফুটবলের সূচিতেও।

সৌদি প্রো লিগের একাধিক ম্যাচের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন ফুটবলারের সৌদি আরব ছাড়ার খবরও পাওয়া গেছে।তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জটিলতায় সৌদি প্রো লিগের নবম রাউন্ডের তিনটি ম্যাচের সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আল আহলি ও আল নাসরের ম্যাচে। চলতি সপ্তাহান্তে ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ৬ মার্চ ২০২৭ তারিখে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আল রিয়াদ ও আল হিলাল এবং আল ইত্তিহাদ ও আল শাবাবের ম্যাচ দুটি পিছিয়ে ১৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাতায়াতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিমানযাত্রার পর খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাও সূচি পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

বিকল্প হিসেবে রিয়াদ ও জেদ্দার মধ্যে বাসে দলগুলোকে যাতায়াত করানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে এই পথে যাত্রায় ১১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে বলে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। আপাতত ওই দিনের বাকি ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচিতেই হওয়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগেও। সোমবার আল নাসর ও উজবেকিস্তানের নেফতচি ফারগানার ম্যাচটি সৌদি রাজধানীতে হামলার হুমকির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয়।

পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও মাঠে নেমেছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল। ম্যাচে গোল করে দলকে জেতান পর্তুগিজ তারকা। খেলা শেষে সৌদি আরবের রঙের স্কার্ফ হাতে উদ্‌যাপন করেন তিনি। নিজের জার্সিতে দেশটির প্রতীকেও চুমু খান রোনালদো। সংকটের মধ্যে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে তার এই আচরণকে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ এবং ১ থেকে ১৫ জানুয়ারি আয়োজনের সূচি থাকা ডাকার র‍্যালিও সংঘাতের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

এদিকে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের টেনিস প্রতিযোগিতা সিক্স কিংস স্ল্যাম পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্লোস আলকারাজ, নোভাক জোকোভিচ, আলেকজান্ডার জভেরেভ, টেলর ফ্রিটজ, অ্যালেক্স দে মিনর ও লার্নার টিয়েনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই প্রতিযোগিতায়।

সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির সভাপতি তুর্কি আলালশিখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ২১ থেকে ২৪ অক্টোবরের পরিবর্তে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর।

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি হয়, যাতে ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এই হামলাতেই ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারান। পরদিন একই বিমানবন্দরে পুনরায় হামলা চালানো হয় এবং ১ জন নিহত হন।

সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর আগে ৬, ৭ এবং ৮ অক্টোবরও সৌদির আভা এবং রিয়াদের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে পৃথক পৃথক হামলা চালানো হয়েছিল। সবগুলো হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেন ভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীরা।