আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’ আজ রবিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়; বরং এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে একটা বার্তা আমরা স্পষ্টভাবে দিতে পারবো। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ সেই ভবনের ছাদে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি, নেতৃত্ব কেবল নীতিতেই নয় বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে।
শিল্পায়ন বাড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।’
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন এসব আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ কারণেই টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয় বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য একটি অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।
’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোয়াট ঘণ্টার সৌরশক্তি পাওয়া যায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে।’
তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সৌরশক্তি এখন কেবল পরিবেশবান্ধব নয়, অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান। আজকের এই প্রকল্প সেই বৃহত্তর যাত্রারই অংশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সবে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয় তবে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপরা, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


















