০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আরাফাতের ময়দানে সমবেত ১৬ লাখের বেশি হজ পালনকারী

ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

হজের সবচেয়ে পবিত্র ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পালনের জন্য মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি মুসল্লি। হাজিরা গভীরভাবে ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমর্পণের পরিবেশে দিনটি কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। জিলহজ মাসের নবম দিনের ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে থাকেন। সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকবেন।

ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান বা উকুফে আরাফাকে হজের মূল রুকন এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, হজ হলো আরাফা, যা এই সমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আরাফার দিন ইসলামী ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র দিন এবং এটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দিনটি মহানবী (সা.) এর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের বিদায় হজের স্মৃতিও বহন করে, যখন তিনি আরাফাতের জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেই খুতবায় ন্যায়বিচার, সাম্য এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার কথা তুলে ধরা হয়। দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা প্রদান করা হবে।

এতে দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করবেন। মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর। এখানে অবস্থিত জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে বহু হাজিকে ইবাদত ও ধ্যানে মগ্ন দেখা যায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থান আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।

রাফাতে যাত্রার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ পালন করেন, যেখানে সোমবার (২৫ মে) তারা হজের সবচেয়ে কঠিন ধাপের জন্য আধ্যাত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেন।

হাজিদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি সেবাদানকারী ইউনিট।

এদিকে, ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

আরাফাতের ময়দানে সমবেত ১৬ লাখের বেশি হজ পালনকারী

আপডেট সময় ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

হজের সবচেয়ে পবিত্র ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পালনের জন্য মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি মুসল্লি। হাজিরা গভীরভাবে ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমর্পণের পরিবেশে দিনটি কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। জিলহজ মাসের নবম দিনের ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে থাকেন। সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকবেন।

ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থান বা উকুফে আরাফাকে হজের মূল রুকন এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, হজ হলো আরাফা, যা এই সমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আরাফার দিন ইসলামী ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র দিন এবং এটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দিনটি মহানবী (সা.) এর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের বিদায় হজের স্মৃতিও বহন করে, যখন তিনি আরাফাতের জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে শেষ খুতবা প্রদান করেছিলেন। সেই খুতবায় ন্যায়বিচার, সাম্য এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার কথা তুলে ধরা হয়। দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা প্রদান করা হবে।

এতে দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্ত আকারে আদায় করবেন। মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর। এখানে অবস্থিত জাবাল আর-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়ে বহু হাজিকে ইবাদত ও ধ্যানে মগ্ন দেখা যায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থান আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।

রাফাতে যাত্রার আগে হাজিরা মিনায় ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ পালন করেন, যেখানে সোমবার (২৫ মে) তারা হজের সবচেয়ে কঠিন ধাপের জন্য আধ্যাত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেন।

হাজিদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি সেবাদানকারী ইউনিট।

এদিকে, ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।