১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির সামনে ছয় রেকর্ডের হাতছানি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা। নাম দুটিই বিশ্বকাপে আলাদা উত্তেজনা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু আটলান্টার সেমিফাইনালকে আরও বড় করে তুলেছে লিওনেল মেসির উপস্থিতি। ৩৯ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে আরেকটি ফাইনালের কাছে নিয়ে যাননি; নিজের নামের পাশে আরও কিছু রেকর্ড যোগ করার সুযোগও তৈরি করেছেন।

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আল জাজিরার ম্যাচ প্রিভিউ অনুযায়ী, এটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেক অধ্যায়; দুই দল বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি হচ্ছে ২৪ বছর পর।

মাঠে এটি মেসি বনাম জুড বেলিংহাম, আবার ইতিহাসের চোখে এটি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, বেকহামের লাল কার্ড, ১৯৬৬, ১৯৮৬, ১৯৯৮ ও ২০০২, সবকিছুর স্মৃতি নিয়ে আসা এক ম্যাচ।
মেসির জন্য ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ।

আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকের বেশি ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিল, উরুগুয়ে, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেছেন, কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো খেলেননি। বুধবার দিবাগত রাতের সেমিফাইনালেই বদলাবে সেই হিসাব; আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচটিকে বলেছে, ‘যে ম্যাচ ভাগ্য মেসির কাছে পাওনা।’
রেকর্ডের জায়গায় মেসি এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এপি জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ১৭ ও ১৮তম গোল করেন, তখনই মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১। এপি ও রয়টার্স দুই মাধ্যমই ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে মেসিকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাই মেসির প্রথম সুযোগ, নিজের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড আরও বাড়ানো। একটি গোল তাকে ২২-এ নিয়ে যাবে। দুটি গোল করলে সেই রেকর্ড আরও দূরে সরে যাবে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে একটি গোলই ইতিহাস বদলে দিতে পারে, সেখানে মেসির প্রতিটি শট এখন রেকর্ড বইয়ের নতুন লাইনের সম্ভাবনা।

গোল্ডেন বুট

দ্বিতীয় বড় সুযোগ, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়া। ফিফার টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যানে সেমিফাইনালের আগে মেসির গোল ৮, সঙ্গে ১ অ্যাসিস্ট। আল জাজিরাও লিখেছে, ছয় ম্যাচে ৮ গোল করে মেসি তার প্রথম বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের জন্য লড়ছেন। ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে আর ম্যাচ নেই; অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম ৬ গোল নিয়ে মেসির পিছু নিচ্ছেন।

বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট

তৃতীয় সুযোগ, নকআউট পর্বে মেসির প্রভাব আরও বাড়ানো। ইএসপিএনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে অ্যাসিস্ট করার পর মেসির বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট ১০; ১৯৬৬ থেকে পাওয়া ডেটা অনুযায়ী এটি অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান ১৪, যা গত ৬০ বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করলেই এই রেকর্ডও আরও বড় হবে।

বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার রেকর্ড

চতুর্থ সুযোগ, বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ানো। ফিফা জানিয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেই মেসি ২৬তম ম্যাচ খেলে লোথার ম্যাথাউসকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে সেই রেকর্ড আরও বেড়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামলেই তিনি নিজের সেই রেকর্ড আরও দীর্ঘ করবেন।

আরেক বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাবনা

পঞ্চম সুযোগ, আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের দরজা খোলা। আল জাজিরা লিখেছে, ইংল্যান্ডকে হারালে আর্জেন্টিনা চার বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠবে। মেসি এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। এবার ফাইনালে উঠলে তার ক্যারিয়ারে তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল যোগ হবে, আধুনিক ফুটবলে বিরল এক অর্জন।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ

আর সবচেয়ে বড় দলীয় লক্ষ্য, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে থাকা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। রয়টার্সকে আর্জেন্টিনার রদ্রিগো দি পল বলেছেন, একবার জয়ের পর আবার জেতা আরও কঠিন, কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইংল্যান্ডকে হারালে মেসির আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে যাবে।

ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া

এপি এই জায়গাটাকেই মেসির ‘গোট’ বিতর্কের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি এরই মধ্যে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপায় নেতৃত্ব দিতে পারলে তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার যুক্তি আরও শক্ত করবেন।

তবে সামনে ইংল্যান্ড। সহজ প্রতিপক্ষ নয়। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম মিলে ইংল্যান্ডের আক্রমণকে সামনে থেকে টেনে নিচ্ছেন। এপি লিখেছে, এই সেমিফাইনাল অনেকটাই মেসি বনাম বেলিংহামের লড়াই হয়ে উঠতে পারে। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড মেসির গোল ও গোল-অবদান নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, অবশেষে তার বিপক্ষে নামার সুযোগ পাওয়া বড় ব্যাপার।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও জানেন, মেসিকে থামানো শুধু একজন খেলোয়াড়কে মার্ক করার বিষয় নয়। এপিকে তিনি বলেছেন, মেসি কোথায় জায়গা নিতে চান, তা সবাই জানে; কিন্তু সেই জায়গা বন্ধ করলেও তিনি নতুন জায়গা তৈরি করতে পারেন। এই ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে।

বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব এখানেই। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এটি মেসির আরেক রাত জাগানো ম্যাচ; ব্রাজিল সমর্থকদের একাংশের কাছে এটি আর্জেন্টিনাকে থামানোর সম্ভাব্য মঞ্চ; আর নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ফুটবল ইতিহাসের শেষ অধ্যায়গুলোর একটি সরাসরি দেখার সুযোগ।

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন এরই মধ্যে ফাইনালে উঠে গেছে। ফলে আজ আর্জেন্টিনা জিতলে মেসির সামনে থাকবে স্পেনের বিপক্ষে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল, আর হারলে হয়তো এটাই হয়ে উঠতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

তাই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল শুধু আরেকটি বড় ম্যাচ নয়। এটি মেসির বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড বাড়ানোর রাত, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার রাত, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার নামার রাত, আর আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের স্বপ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার রাত।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির সামনে ছয় রেকর্ডের হাতছানি

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা। নাম দুটিই বিশ্বকাপে আলাদা উত্তেজনা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।

কিন্তু আটলান্টার সেমিফাইনালকে আরও বড় করে তুলেছে লিওনেল মেসির উপস্থিতি। ৩৯ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে আরেকটি ফাইনালের কাছে নিয়ে যাননি; নিজের নামের পাশে আরও কিছু রেকর্ড যোগ করার সুযোগও তৈরি করেছেন।

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আল জাজিরার ম্যাচ প্রিভিউ অনুযায়ী, এটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেক অধ্যায়; দুই দল বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি হচ্ছে ২৪ বছর পর।

মাঠে এটি মেসি বনাম জুড বেলিংহাম, আবার ইতিহাসের চোখে এটি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, বেকহামের লাল কার্ড, ১৯৬৬, ১৯৮৬, ১৯৯৮ ও ২০০২, সবকিছুর স্মৃতি নিয়ে আসা এক ম্যাচ।
মেসির জন্য ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ।

আর্জেন্টিনার হয়ে দুই দশকের বেশি ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিল, উরুগুয়ে, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলেছেন, কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো খেলেননি। বুধবার দিবাগত রাতের সেমিফাইনালেই বদলাবে সেই হিসাব; আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচটিকে বলেছে, ‘যে ম্যাচ ভাগ্য মেসির কাছে পাওনা।’
রেকর্ডের জায়গায় মেসি এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এপি জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ১৭ ও ১৮তম গোল করেন, তখনই মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যান। এরপর চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১। এপি ও রয়টার্স দুই মাধ্যমই ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে মেসিকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাই মেসির প্রথম সুযোগ, নিজের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড আরও বাড়ানো। একটি গোল তাকে ২২-এ নিয়ে যাবে। দুটি গোল করলে সেই রেকর্ড আরও দূরে সরে যাবে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে একটি গোলই ইতিহাস বদলে দিতে পারে, সেখানে মেসির প্রতিটি শট এখন রেকর্ড বইয়ের নতুন লাইনের সম্ভাবনা।

গোল্ডেন বুট

দ্বিতীয় বড় সুযোগ, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়া। ফিফার টুর্নামেন্ট পরিসংখ্যানে সেমিফাইনালের আগে মেসির গোল ৮, সঙ্গে ১ অ্যাসিস্ট। আল জাজিরাও লিখেছে, ছয় ম্যাচে ৮ গোল করে মেসি তার প্রথম বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুটের জন্য লড়ছেন। ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে আর ম্যাচ নেই; অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম ৬ গোল নিয়ে মেসির পিছু নিচ্ছেন।

বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট

তৃতীয় সুযোগ, নকআউট পর্বে মেসির প্রভাব আরও বাড়ানো। ইএসপিএনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে অ্যাসিস্ট করার পর মেসির বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট ১০; ১৯৬৬ থেকে পাওয়া ডেটা অনুযায়ী এটি অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান ১৪, যা গত ৬০ বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করলেই এই রেকর্ডও আরও বড় হবে।

বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার রেকর্ড

চতুর্থ সুযোগ, বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ানো। ফিফা জানিয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেই মেসি ২৬তম ম্যাচ খেলে লোথার ম্যাথাউসকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন। ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে সেই রেকর্ড আরও বেড়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামলেই তিনি নিজের সেই রেকর্ড আরও দীর্ঘ করবেন।

আরেক বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাবনা

পঞ্চম সুযোগ, আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের দরজা খোলা। আল জাজিরা লিখেছে, ইংল্যান্ডকে হারালে আর্জেন্টিনা চার বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠবে। মেসি এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। এবার ফাইনালে উঠলে তার ক্যারিয়ারে তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল যোগ হবে, আধুনিক ফুটবলে বিরল এক অর্জন।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ

আর সবচেয়ে বড় দলীয় লক্ষ্য, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে থাকা। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। রয়টার্সকে আর্জেন্টিনার রদ্রিগো দি পল বলেছেন, একবার জয়ের পর আবার জেতা আরও কঠিন, কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইংল্যান্ডকে হারালে মেসির আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে যাবে।

ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাওয়া

এপি এই জায়গাটাকেই মেসির ‘গোট’ বিতর্কের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি এরই মধ্যে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপায় নেতৃত্ব দিতে পারলে তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার যুক্তি আরও শক্ত করবেন।

তবে সামনে ইংল্যান্ড। সহজ প্রতিপক্ষ নয়। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম মিলে ইংল্যান্ডের আক্রমণকে সামনে থেকে টেনে নিচ্ছেন। এপি লিখেছে, এই সেমিফাইনাল অনেকটাই মেসি বনাম বেলিংহামের লড়াই হয়ে উঠতে পারে। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড মেসির গোল ও গোল-অবদান নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, অবশেষে তার বিপক্ষে নামার সুযোগ পাওয়া বড় ব্যাপার।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও জানেন, মেসিকে থামানো শুধু একজন খেলোয়াড়কে মার্ক করার বিষয় নয়। এপিকে তিনি বলেছেন, মেসি কোথায় জায়গা নিতে চান, তা সবাই জানে; কিন্তু সেই জায়গা বন্ধ করলেও তিনি নতুন জায়গা তৈরি করতে পারেন। এই ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে।

বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব এখানেই। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এটি মেসির আরেক রাত জাগানো ম্যাচ; ব্রাজিল সমর্থকদের একাংশের কাছে এটি আর্জেন্টিনাকে থামানোর সম্ভাব্য মঞ্চ; আর নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ফুটবল ইতিহাসের শেষ অধ্যায়গুলোর একটি সরাসরি দেখার সুযোগ।

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন এরই মধ্যে ফাইনালে উঠে গেছে। ফলে আজ আর্জেন্টিনা জিতলে মেসির সামনে থাকবে স্পেনের বিপক্ষে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল, আর হারলে হয়তো এটাই হয়ে উঠতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

তাই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল শুধু আরেকটি বড় ম্যাচ নয়। এটি মেসির বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড বাড়ানোর রাত, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার রাত, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার নামার রাত, আর আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের স্বপ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার রাত।