পর্যটনকে অর্থনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানা পদক্ষেপ
- আপডেট সময় ০৫:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে
দেশের পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও অর্থনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার আলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পর্যটন শিল্প ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ মহাপরিকল্পনার আলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, নতুন পর্যটন গন্তব্য চিহ্নিতকরণ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনবহুল পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভলান্টিয়ার টিম গঠন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনসেবার মানোন্নয়নে ট্যুর অপারেটর, পর্যটন উদ্যোক্তা, আবাসন ও পরিবহন খাতের কর্মী, বিনোদন পার্কের কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যটন শিল্পের প্রচার ও প্রসারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও রেলস্টেশনে এলইডি বোর্ড স্থাপন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজন, ট্যুর গাইডলাইন প্রণয়ন, বিভিন্ন ভাষায় ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ, পরিচিতিমূলক ভ্রমণ আয়োজন এবং ভার্চ্যুয়াল ট্যুর প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নীতিগত সহায়তা এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম, কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আওতাধীন ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ, ফ্রন্ট অফিস, হাউসকিপিং এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিসসহ বিভিন্ন কোর্স নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্যুর গাইডকে মর্যাদাপূর্ণ পেশায় পরিণত করতে প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটের জন্য প্রশিক্ষিত গাইড তৈরির কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ১০১ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ১৩২ দশমিক ৪৪ একর জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও পর্যটন সুবিধা নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিমান্ড অ্যাসেসমেন্ট ও মার্কেট স্টাডি সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের মোটেল লাবনী কমপাউন্ডে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতকে টেকসই, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পে পরিণত করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।



















