ঈদুল আজহায় নিরাপত্তায় সাত দিন আগে-পরে মনিটরিং সেল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ঈদের আগে সাত দিন ও পরে সাত দিন পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ছুটির সময়ে ঢাকা শহরসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন বিভাগের হটলাইন নম্বর সক্রিয় থাকবে এবং সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, এনএসআই, ডিজিএফআই, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি, দক্ষিণে ১১টিসহ সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এসব হাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাল নোট প্রতিরোধে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইজারাদারদেরও নিজ উদ্যোগে জাল নোট শনাক্তকারী যন্ত্র সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশুবাহী যানবাহন ও নৌপথে চাঁদাবাজি ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। এ জন্য বিভিন্ন হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে মহাসড়কে স্পিডগান ব্যবহার, রেকার প্রস্তুত রাখা এবং সড়কের খানাখন্দ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নৌপথের নিরাপত্তায় বিআইডব্লিউটিএর হটলাইন ‘১৬১১৩’ সক্রিয় থাকবে। ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর ‘১০২’-ও সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিকের বেতন ও বোনাস বকেয়া না থাকে, সে বিষয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের বিষয়ে মসজিদের ইমাম, ইসলামী ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রচার চালানো হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার চাঁদাবাজি বৃদ্ধির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য সরকারের কাছে নেই। সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সরকার।




















