০৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারতের রাঁচি, পুলিশের লাঠিচার্জ

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানকে ঘিরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সোমবারের কর্মসূচিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন।

আন্দোলনে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। সকাল থেকেই ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা রাঁচিতে পৌঁছাতে শুরু করেন।

এদিকে আন্দোলনের ১৬তম দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। প্রধান সড়ক এবং জেলা সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুলও।

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। এক সময় তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের আটকাতে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের মুখে জাতীয় সংগীতও শোনা যায়।

এদিন অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতোও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে বিকল্প পথে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এখনও ছয়জন আন্দোলনকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের চাপের মধ্যেই সিআইডির সমন পাওয়ার পর রোববার জেপিএসসির তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২২ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি। তার অভিযোগ, জেপিএসসি ও জেএসএস সব পরীক্ষার কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তার দাবি, গত ১৪-১৫ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অনশন করছেন এবং অসুস্থ হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মারান্ডি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী বিধায়করা পরীক্ষার কথিত অনিয়ম এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আটকে দেওয়া হয়। পরে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপনের চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। সরকারের এই আচরণকে তিনি ‘স্বৈরাচারী’ বলে মন্তব্য করেন।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমশ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিজেপি নেতারাও বিক্ষোভ করেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারতের রাঁচি, পুলিশের লাঠিচার্জ

আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানকে ঘিরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সোমবারের কর্মসূচিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন।

আন্দোলনে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। সকাল থেকেই ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা রাঁচিতে পৌঁছাতে শুরু করেন।

এদিকে আন্দোলনের ১৬তম দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। প্রধান সড়ক এবং জেলা সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুলও।

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। এক সময় তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের আটকাতে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের মুখে জাতীয় সংগীতও শোনা যায়।

এদিন অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতোও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে বিকল্প পথে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এখনও ছয়জন আন্দোলনকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের চাপের মধ্যেই সিআইডির সমন পাওয়ার পর রোববার জেপিএসসির তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২২ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি। তার অভিযোগ, জেপিএসসি ও জেএসএস সব পরীক্ষার কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তার দাবি, গত ১৪-১৫ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অনশন করছেন এবং অসুস্থ হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মারান্ডি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী বিধায়করা পরীক্ষার কথিত অনিয়ম এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আটকে দেওয়া হয়। পরে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপনের চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। সরকারের এই আচরণকে তিনি ‘স্বৈরাচারী’ বলে মন্তব্য করেন।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এই ইস্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমশ বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিজেপি নেতারাও বিক্ষোভ করেন।