প্রীতমের ব্যস্ততায় শেহতাজের সঙ্গে বাড়ছিল দূরত্ব
- আপডেট সময় ০৫:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ০ বার পড়া হয়েছে
একসময় পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব, প্রেম-সবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেম। তাদের সম্পর্কের গল্পে ছিল দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম, ছিল একসঙ্গে পথচলার নানা মুহূর্ত।
কিন্তু সেই পথচলাই এবার এসে থেমেছে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিচ্ছেদের বিষয়টি জানান শেহতাজ।
তার ভাষায়, অনেক ভেবেচিন্তে তারা উপলব্ধি করেছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা পথে চলাই দুজনের জন্য ভালো। পরিবারের সমর্থন নিয়ে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তারা?
বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ্যে আনেননি প্রীতম বা শেহতাজ। তবে তাদের ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কাজের ব্যস্ততা ও দুজনের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বের বিষয়টি।
সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রীতমের ব্যস্ততা গত কয়েক বছরে বেড়েছে। নিয়মিত শো, গান ও অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাকে। ঘনিষ্ঠ এক মিউজিশিয়ানের দাবি, এই ব্যস্ততার প্রভাব একসময় ব্যক্তিগত জীবনেও পড়তে শুরু করে। সংসারে সময় দেওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি তার।
অন্যদিকে শেহতাজের ঘনিষ্ঠ একজনের ভাষ্য, পরিস্থিতির প্রভাব তার মধ্যেও পড়েছিল। প্রীতমের ব্যস্ততা নিয়ে অসন্তোষ ও সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের কারণে শেহতাজের আচরণেও পরিবর্তন এসেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে অস্বস্তি ও মনোমালিন্য চলছিল বলেও জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
তবে ঘনিষ্ঠজনদের এসব বক্তব্য এখনো প্রীতম কিংবা শেহতাজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই তাদের বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
প্রীতম ও শেহতাজের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। প্রীতম হাসানের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে গিয়ে দুজনের পরিচয়। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর সেখান থেকেই একসময় প্রেম।
প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একসঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের ছবি ও স্মৃতি ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। যে দুজন একসময় একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন, তারাই এখন জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে আলাদা পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও শেহতাজের বক্তব্যে কোনো তিক্ততার প্রকাশ নেই। বরং একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, এখনো তারা একে অপরের প্রতি যত্নশীল।
তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব তাদের আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে বলে জানান শেহতাজ। জীবনের এই পরিবর্তনের সময়ে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিস্থিতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি।
একটি সম্পর্কের শেষ মানেই সব স্মৃতির শেষ নয়। প্রীতম ও শেহতাজের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই। দীর্ঘ প্রেম, বিয়ে ও একসঙ্গে কাটানো সময়ের পর তাদের পথ আলাদা হলেও অতীতের সেই অধ্যায় থেকে যাচ্ছে তাদের জীবনেরই অংশ হয়ে।
এখন সামনে তাদের নতুন পথ। সেই পথে তারা কীভাবে নিজেদের জীবনকে গুছিয়ে নেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।



















