ফাইনাল হারের পর প্রথম বার্তায় মেসি: ‘এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে’
- আপডেট সময় ০৫:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে কোনো সাক্ষাৎকার না দিয়ে মাঠ ছাড়লেও, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নিজের অনুভূতির কথা জানান তিনি।
একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের ভবিষ্যতের বিষয়টি পুরোপুরি ধোঁয়াশায় রেখে দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেই বার্তায় মেসি লেখেন, ‘কষ্টটা অনেক বড় এবং এই ক্ষত শুকাতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।
তবে আমি সব ইতিবাচক স্মৃতিগুলোই মনে রাখতে চাই… যেভাবে আমরা নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, তা সারাজীবন স্মরণে থাকবে। পুরো দেশের সমর্থন এবং এই দলের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলেই আমরা আবারও, আরও একবার বিশ্বের সেরাদের কাতারে পৌঁছাতে পেরেছিলাম।
আজ হয়তো আমরা যা করেছি তার সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন, তবে এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে।’
দেশবাসী ও বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ৩৭ নম্বর জার্সিধারী এই মহাতারকা আরও লেখেন, ‘আপনাদের প্রতিটি শুভকামনা ও বার্তার জন্য হৃদয় থেকে অনেক ধন্যবাদ।
আরও একবার আমরা এক দেশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে নিজেদের অসীম গর্বের মুহূর্তগুলো একসাথে ভাগ করে নিয়েছি। এর পাশাপাশি শিরোপা জয়ের জন্য আমি স্পেনকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
মেসির এই দীর্ঘ বার্তায় নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বা জাতীয় দলের হয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল না। ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকর নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে তিনটি ফাইনালের মূল একাদশে থাকার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। তবে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ কি না; সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছুই বলেননি।
আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর, যা কোনো ফুটবলারের পক্ষে খেলা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তবুও অবসরের ঘোষণা দেওয়া বা নিজের শেষ ম্যাচের তারিখ নির্ধারণ করা থেকে একেবারেই বিরত থেকেছেন তিনি। এমনকি আগামীতে কোনো প্রীতি ম্যাচ বা অফিসিয়াল টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেন কি না, তা নিয়ে কোনো তথ্য দেননি।
কোনো নির্দিষ্ট বার্তা না থাকায় মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা কেবল আরও ঘনীভূতই হলো, যা কেবল মেসি নিজেই পরিষ্কার করতে পারবেন। ফাইনাল ম্যাচটি যদি সত্যিই বিশ্বকাপে তার শেষ ম্যাচ হয়ে থাকে, তবে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছাড়া নিঃশব্দেই বিদায় নিলেন তিনি।
আর যদি তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করে থাকেন, তবে তারও কোনো সূত্র তিনি রেখে যাননি। বিশ্বকাপের মতো আসর শেষ হওয়ার পর এই প্রথমবার আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন নীরবতা প্রত্যক্ষ করল ফুটবল বিশ্ব।



















