০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় অন-অ্যারাইভাল চালুর অনুরোধ

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ। একই সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পর্ক আরও জোরদারে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।

এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল পুনরায় চালু, ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ওষুধ আমদানি, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ আমদানি এবং ইন্দোনেশিয়ার কফি, শিমসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে এসব ব্যাগ ব্যবহার।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি আলু প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় ঢাকা।

এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়াও ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী।
ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল খাদ্য ভোক্তা বাজার হিসেবে উল্লেখ করে হালাল খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট ( সেপা) এর দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে আনিস মাত্তা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহের কথা জানান। তিনি ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন হুমায়ুন কবির। এসব বিষয়ে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন আনিস মাত্তা।

উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে ৫ – ৯ অক্টোবর সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশিদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় অন-অ্যারাইভাল চালুর অনুরোধ

আপডেট সময় ০৪:৪০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ। একই সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পর্ক আরও জোরদারে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।

এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল পুনরায় চালু, ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ওষুধ আমদানি, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ আমদানি এবং ইন্দোনেশিয়ার কফি, শিমসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে এসব ব্যাগ ব্যবহার।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি আলু প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় ঢাকা।

এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়াও ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী।
ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল খাদ্য ভোক্তা বাজার হিসেবে উল্লেখ করে হালাল খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট ( সেপা) এর দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে আনিস মাত্তা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহের কথা জানান। তিনি ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন হুমায়ুন কবির। এসব বিষয়ে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন আনিস মাত্তা।

উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে ৫ – ৯ অক্টোবর সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা।