০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

বিক্ষোভের জেরে ৫০০ স্কুল বন্ধ করল ফ্রান্স

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:৪২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

ছবি : রয়টার্স।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলের ক্লাস বন্ধ থাকতে পারে। নিরাপত্তার কারণে এসব স্কুলে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।

গত সপ্তাহ থেকে শিক্ষার মান ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে। প্যারিসের পাশাপাশি মন্টপেলিয়ার, নান্তেস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে।

তিনি জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শুক্রবার ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছিলেন, দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে সহিংস বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেফ্রে বলেন, চলমান সহিংসতায় শিক্ষার্থী ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষা খাতের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, শুক্রবারের বিক্ষোভে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদিকে বিক্ষোভের আয়োজকেরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকর্মীদের সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সময়সূচি আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা স্বচ্ছ করা।
স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরই এর খরচ বহন করতে হবে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কিছু উগ্র বামপন্থী ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে সেটিকে সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি বিস্তারিত কোনো প্রমাণ দেননি।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বিক্ষোভের জেরে ৫০০ স্কুল বন্ধ করল ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৫:৪২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলের ক্লাস বন্ধ থাকতে পারে। নিরাপত্তার কারণে এসব স্কুলে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে।

গত সপ্তাহ থেকে শিক্ষার মান ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে। প্যারিসের পাশাপাশি মন্টপেলিয়ার, নান্তেস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে।

তিনি জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শুক্রবার ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছিলেন, দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে সহিংস বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেফ্রে বলেন, চলমান সহিংসতায় শিক্ষার্থী ও স্কুলকর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষা খাতের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, শুক্রবারের বিক্ষোভে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদিকে বিক্ষোভের আয়োজকেরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেন, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকর্মীদের সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা, স্কুলের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সময়সূচি আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা স্বচ্ছ করা।
স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি বিলের পর্যালোচনাও দ্রুত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরই এর খরচ বহন করতে হবে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কিছু উগ্র বামপন্থী ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে সেটিকে সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি বিস্তারিত কোনো প্রমাণ দেননি।