১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য বেশ সক্রিয়।

তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’
গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বাংলাদেশের বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি। তবে আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আগে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট থেকে উত্তরণে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। অপরিকল্পিত প্ল্যান যেগুলো ছিল, যা আমাদের জ্বালানি খাতকে একটি বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে, কিভাবে সেটিকে সঠিক করে নিয়ে আসতে পারি, কিভাবে এমন একটি পরিকল্পনা আমরা উপস্থাপন করতে পারি, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পেট্রল বলুন, গ্যাস বলুন বা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাত বলুন—এর থেকে দেশ এবং দেশের মানুষকে সংকট থেকে ধীরে ধীরে আমরা বের করে নিয়ে আসতে পারি।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুনগাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও অন্য চিকিৎসকরা অংশ নেন।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

 

সমাবেশে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

সংকট থেকে সমাধান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মোস্তফা আদিব সুমন এবং ‘জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উত্থান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইফ মোহাম্মদ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ প্রতিটি সেক্টরকে স্বয়ংসম্পন্ন এবং সনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে এবং স্বয়ংসম্পন্ন করতে সরকার এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেটও বরাদ্দ করেছে। তবে অবশ্যই এখানে শুধু সরকার না, সরকারের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশে আপনারা যাঁরা চিকিৎসক আছেন, সেটি উপজেলা পর্যায়ে হোক, জেলা পর্যায়ে হোক না কেন, সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসককে এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা, সমর্থন, সাহায্য ছাড়া সরকারের পক্ষে এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।’

 

রাজনীতি যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায়

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিংবা কতটা থাকবেন, এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে একটি আলোচনা আছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। তবে আমার মতটি আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। সেটি হচ্ছে—একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকে প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যাঁর যাঁর মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকবেন বা সচেতন থাকবেন, এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পোর্টেন্ট। এ ব্যাপারে এখানে উপস্থিত ড্যাবের সব চিকিৎসককে আমি সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানাব।’

তিনি বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন সময়ের একটি কঠিন দাবি। এটা যেন আমরা সবাই অনুভব করতে পারি, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’

চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

গতকাল জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাত চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

চাকরির নিয়োগপত্রপ্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি ও শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রানী।
এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার।

উপপ্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন, কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরো ভালো করা।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

 

জুলাই যোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা উপহার গতকাল জীবিকা নির্বাহের জন্য তিন জুলাই যোদ্ধাকে সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যাটারি ও প্যাডালচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে প্রধানমন্ত্রী উপহার তুলে দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সিএনজি অটোরিকশা।

এছাড়া কুষ্টিয়ার মো. গাফফার দুটি প্যাডালচালিত রিকশা ও বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গাফফার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছিলেন এবং নিজের রিকশায় করে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

এ সময় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

দেশ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।’

গতকাল বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়, কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।’

সভায় খাল খনন প্রকল্পে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩টি উপজেলার নির্বাহী অফিসারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

আপডেট সময় ০৯:৩৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য বেশ সক্রিয়।

তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’
গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বাংলাদেশের বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি। তবে আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আগে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট থেকে উত্তরণে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। অপরিকল্পিত প্ল্যান যেগুলো ছিল, যা আমাদের জ্বালানি খাতকে একটি বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে, কিভাবে সেটিকে সঠিক করে নিয়ে আসতে পারি, কিভাবে এমন একটি পরিকল্পনা আমরা উপস্থাপন করতে পারি, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পেট্রল বলুন, গ্যাস বলুন বা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাত বলুন—এর থেকে দেশ এবং দেশের মানুষকে সংকট থেকে ধীরে ধীরে আমরা বের করে নিয়ে আসতে পারি।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুনগাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও অন্য চিকিৎসকরা অংশ নেন।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

 

সমাবেশে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত

সংকট থেকে সমাধান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মোস্তফা আদিব সুমন এবং ‘জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উত্থান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইফ মোহাম্মদ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ প্রতিটি সেক্টরকে স্বয়ংসম্পন্ন এবং সনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে এবং স্বয়ংসম্পন্ন করতে সরকার এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেটও বরাদ্দ করেছে। তবে অবশ্যই এখানে শুধু সরকার না, সরকারের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশে আপনারা যাঁরা চিকিৎসক আছেন, সেটি উপজেলা পর্যায়ে হোক, জেলা পর্যায়ে হোক না কেন, সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসককে এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা, সমর্থন, সাহায্য ছাড়া সরকারের পক্ষে এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।’

 

রাজনীতি যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায়

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিংবা কতটা থাকবেন, এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে একটি আলোচনা আছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। তবে আমার মতটি আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। সেটি হচ্ছে—একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকে প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যাঁর যাঁর মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকবেন বা সচেতন থাকবেন, এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পোর্টেন্ট। এ ব্যাপারে এখানে উপস্থিত ড্যাবের সব চিকিৎসককে আমি সতর্ক থাকার জন্য আহবান জানাব।’

তিনি বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন সময়ের একটি কঠিন দাবি। এটা যেন আমরা সবাই অনুভব করতে পারি, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’

চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

গতকাল জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাত চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

চাকরির নিয়োগপত্রপ্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি ও শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রানী।
এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার।

উপপ্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন, কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরো ভালো করা।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

 

জুলাই যোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা উপহার গতকাল জীবিকা নির্বাহের জন্য তিন জুলাই যোদ্ধাকে সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যাটারি ও প্যাডালচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে প্রধানমন্ত্রী উপহার তুলে দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সিএনজি অটোরিকশা।

এছাড়া কুষ্টিয়ার মো. গাফফার দুটি প্যাডালচালিত রিকশা ও বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গাফফার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছিলেন এবং নিজের রিকশায় করে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

এ সময় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

দেশ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।’

গতকাল বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়, কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।’

সভায় খাল খনন প্রকল্পে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩টি উপজেলার নির্বাহী অফিসারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।