০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে কেন হারল আর্জেন্টিনা?

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফাইনালের স্কোরলাইন ১-০। তবে স্পেনের এই জয় শুধু ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে সীমাবদ্ধ নয়।

ম্যাচের বড় গল্প ছিল আর্জেন্টিনার আক্রমণকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। লিওনেল মেসি ছিলেন মাঠে, কিন্তু ম্যাচে প্রভাব রাখার মতো জায়গা তিনি পাননি।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেডে নামিয়ে দেওয়া বল ধরে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস।

এপি জানিয়েছে, সেটি ছিল ম্যাচে স্পেনের ২০তম শট। আর্জেন্টিনাকে আক্রমণই করতে দেয়নি স্পেন

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার শক্তি ছিল শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা।

মিসর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ফিরে এসেছিল নাটকীয়ভাবে। রয়টার্স লিখেছে, এই ফিরে আসার গল্পে বেশির ভাগ সময় বড় ভূমিকা ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসির গোল বা অ্যাসিস্টের। কিন্তু ফাইনালে সেই সুযোগই পায়নি আর্জেন্টিনা।
রয়টার্সের ভাষায়, স্পেন তাদের কাজটি ভালোভাবে করে এসেছিল। তারা আর্জেন্টিনাকে প্রায় পুরো ম্যাচেই বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখে। আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটে কোনো শট নিতে পারেনি; বিশ্বকাপ ফাইনালে ৯০ মিনিটে কোনো দলের একটিও শট না নেওয়ার নজির হিসেবে এটিকে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। তাদের প্রথম শট আসে ১১৬ মিনিটে, তখন তারা ১-০ গোলে পিছিয়ে এবং ১০ জনে।

মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে রাখাই ছিল বড় পার্থক্য

মেসি এই বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তাকে খুব শান্ত রাখা হয়। স্পেন তাকে হয় চেপে ধরে রেখেছে, নয়তো বল তার পায়ে পৌঁছাতেই দেয়নি।

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, তিন ঘণ্টার ম্যাচে মেসি বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৫৪ বার। এমন ম্যাচে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দলের আক্রমণকেও ভেঙে দেয়। মেসির আশপাশে পর্যাপ্ত বল সরবরাহ ছিল না, সামনে ধারাবাহিক দৌড়ও ছিল না। ফলে আর্জেন্টিনা তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে ব্যবহারই করতে পারেনি।

শেষ মুহূর্তের জাদু এবার হলো না

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ছিল শেষ দিকে গোল করার দল। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তারা নিজেদের পরিচিত জায়গায় নিতে পারেনি। স্পেন বল নিয়ন্ত্রণ করেছে, আর্জেন্টিনাকে দৌড় করিয়েছে এবং ম্যাচের গতি নিজেদের মতো রেখেছে।

স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন ছিল প্রাপ্য বিজয়ী। তোরেস গোল করেন স্পেনের ২০তম শটে, আর পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার একটিও শট লক্ষ্যে ছিল না। তাদের একমাত্র বড় হুমকি আসে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে, যখন হুলিয়ানো সিমিওনের শট বাইরে চলে যায়।

ফাউল ও লাল কার্ডে আরও চাপে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচের মোড় ঘোরানো ঘটনা ছিল এনসো ফার্নান্দেসের লাল কার্ড। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসির ওপর বেপরোয়া চ্যালেঞ্জের পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এতে আর্জেন্টিনা ১০ জনে নেমে যায়।

এনসোর আগে তিনি রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বলে এপি জানিয়েছে। অর্থাৎ লাল কার্ডটি শুধু একটি ফাউলের ফল ছিল না; ম্যাচজুড়ে চাপ ও হতাশা আর্জেন্টিনার শৃঙ্খলাতেও প্রভাব ফেলেছিল।

স্কাই স্পোর্টসের স্কোরকার্ড অনুযায়ী, লিয়ান্দ্রো পারেদেসও ম্যাচ শেষে ১২০+৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। একই প্রতিবেদনে ম্যাচ শেষের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের উত্তেজনার কথাও এসেছে।
মার্তিনেস না থাকলে আগেই শেষ হতে পারত

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের পারফরম্যান্স। স্পেনের চাপের মুখেও তিনি দলকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে রেখেছিলেন।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে বলেন, ম্যাচটি আরও আগেই শেষ হওয়া উচিত ছিল; মার্তিনেসের সেভগুলো তাদের আগে জিততে দেয়নি। স্কাই স্পোর্টসও লিখেছে, স্পেনের ধারাবাহিক চাপের মধ্যে আর্জেন্টিনা নিজেদের কাঠামো ধরে রেখেছিল এবং মার্তিনেসের একাধিক সেভের ওপর নির্ভর করেছিল।

বদলির শক্তিতে এগিয়ে যায় স্পেন

স্পেনের বেঞ্চও ম্যাচে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। রয়টার্স লিখেছে, বদলি নেমে ফেরান তোরেস ও নিকো উইলিয়ামস স্পেনের আক্রমণে গতি ও তীব্রতা যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত দুজনের সমন্বয়েই আসে জয়সূচক গোল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ১০ জনে নেমে যাওয়ার পর আরও রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। এপি জানিয়েছে, ১০২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের বদলে ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিকে নামায় আর্জেন্টিনা। সিদ্ধান্তটি পরিস্থিতির কারণে হলেও এতে আক্রমণের পথ আরও সংকুচিত হয়।

ধারাবাহিকতা হারাল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার ধারাবাহিকতা ভাঙার মূল কারণ ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণ। তারা আর্জেন্টিনাকে নিজেদের ছন্দে খেলতে দেয়নি। মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে, মাঝমাঠে চাপ ধরে রেখে এবং আর্জেন্টিনাকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রেখে স্পেন ম্যাচের চরিত্র পাল্টে দেয়।

আরেকটি কারণ ছিল আর্জেন্টিনার বিকল্প পরিকল্পনার অভাব। মেসি যখন খেলার ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না, তখন অন্য কোনো পথে আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি স্কালোনির দল। শট না নেওয়া, লক্ষ্যভেদী শট না থাকা এবং শেষ দিকে লাল কার্ড; সব মিলিয়ে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

ব্যর্থতার মূল কারণ

আর্জেন্টিনার হারের পেছনে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, স্পেন মেসিকে ম্যাচ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। দ্বিতীয়ত, আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটে কোনো শট নিতে পারেনি এবং পুরো ম্যাচে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। তৃতীয়ত, এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড তাদের শেষ পরিকল্পনাও নষ্ট করে দেয়। চতুর্থত, স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা ম্যাচের শেষ ভাগে যে গতি এনেছেন, আর্জেন্টিনা তার জবাব দিতে পারেনি।

মার্তিনেস আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু শুধু গোলরক্ষকের সেভে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতা যায় না। যেখানে মেসি বিচ্ছিন্ন, আক্রমণ শটহীন এবং মাঝমাঠ চাপের মুখে, সেখানে হার এড়ানো আর্জেন্টিনার পক্ষে অসম্ভবই।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ ফাইনালে কেন হারল আর্জেন্টিনা?

আপডেট সময় ০৫:৪৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালের স্কোরলাইন ১-০। তবে স্পেনের এই জয় শুধু ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে সীমাবদ্ধ নয়।

ম্যাচের বড় গল্প ছিল আর্জেন্টিনার আক্রমণকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। লিওনেল মেসি ছিলেন মাঠে, কিন্তু ম্যাচে প্রভাব রাখার মতো জায়গা তিনি পাননি।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেডে নামিয়ে দেওয়া বল ধরে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস।

এপি জানিয়েছে, সেটি ছিল ম্যাচে স্পেনের ২০তম শট। আর্জেন্টিনাকে আক্রমণই করতে দেয়নি স্পেন

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার শক্তি ছিল শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা।

মিসর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ফিরে এসেছিল নাটকীয়ভাবে। রয়টার্স লিখেছে, এই ফিরে আসার গল্পে বেশির ভাগ সময় বড় ভূমিকা ছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসির গোল বা অ্যাসিস্টের। কিন্তু ফাইনালে সেই সুযোগই পায়নি আর্জেন্টিনা।
রয়টার্সের ভাষায়, স্পেন তাদের কাজটি ভালোভাবে করে এসেছিল। তারা আর্জেন্টিনাকে প্রায় পুরো ম্যাচেই বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখে। আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটে কোনো শট নিতে পারেনি; বিশ্বকাপ ফাইনালে ৯০ মিনিটে কোনো দলের একটিও শট না নেওয়ার নজির হিসেবে এটিকে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। তাদের প্রথম শট আসে ১১৬ মিনিটে, তখন তারা ১-০ গোলে পিছিয়ে এবং ১০ জনে।

মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে রাখাই ছিল বড় পার্থক্য

মেসি এই বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তাকে খুব শান্ত রাখা হয়। স্পেন তাকে হয় চেপে ধরে রেখেছে, নয়তো বল তার পায়ে পৌঁছাতেই দেয়নি।

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, তিন ঘণ্টার ম্যাচে মেসি বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৫৪ বার। এমন ম্যাচে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দলের আক্রমণকেও ভেঙে দেয়। মেসির আশপাশে পর্যাপ্ত বল সরবরাহ ছিল না, সামনে ধারাবাহিক দৌড়ও ছিল না। ফলে আর্জেন্টিনা তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে ব্যবহারই করতে পারেনি।

শেষ মুহূর্তের জাদু এবার হলো না

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ছিল শেষ দিকে গোল করার দল। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তারা নিজেদের পরিচিত জায়গায় নিতে পারেনি। স্পেন বল নিয়ন্ত্রণ করেছে, আর্জেন্টিনাকে দৌড় করিয়েছে এবং ম্যাচের গতি নিজেদের মতো রেখেছে।

স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন ছিল প্রাপ্য বিজয়ী। তোরেস গোল করেন স্পেনের ২০তম শটে, আর পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার একটিও শট লক্ষ্যে ছিল না। তাদের একমাত্র বড় হুমকি আসে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে, যখন হুলিয়ানো সিমিওনের শট বাইরে চলে যায়।

ফাউল ও লাল কার্ডে আরও চাপে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচের মোড় ঘোরানো ঘটনা ছিল এনসো ফার্নান্দেসের লাল কার্ড। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসির ওপর বেপরোয়া চ্যালেঞ্জের পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এতে আর্জেন্টিনা ১০ জনে নেমে যায়।

এনসোর আগে তিনি রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বলে এপি জানিয়েছে। অর্থাৎ লাল কার্ডটি শুধু একটি ফাউলের ফল ছিল না; ম্যাচজুড়ে চাপ ও হতাশা আর্জেন্টিনার শৃঙ্খলাতেও প্রভাব ফেলেছিল।

স্কাই স্পোর্টসের স্কোরকার্ড অনুযায়ী, লিয়ান্দ্রো পারেদেসও ম্যাচ শেষে ১২০+৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। একই প্রতিবেদনে ম্যাচ শেষের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের উত্তেজনার কথাও এসেছে।
মার্তিনেস না থাকলে আগেই শেষ হতে পারত

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের পারফরম্যান্স। স্পেনের চাপের মুখেও তিনি দলকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে রেখেছিলেন।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে বলেন, ম্যাচটি আরও আগেই শেষ হওয়া উচিত ছিল; মার্তিনেসের সেভগুলো তাদের আগে জিততে দেয়নি। স্কাই স্পোর্টসও লিখেছে, স্পেনের ধারাবাহিক চাপের মধ্যে আর্জেন্টিনা নিজেদের কাঠামো ধরে রেখেছিল এবং মার্তিনেসের একাধিক সেভের ওপর নির্ভর করেছিল।

বদলির শক্তিতে এগিয়ে যায় স্পেন

স্পেনের বেঞ্চও ম্যাচে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। রয়টার্স লিখেছে, বদলি নেমে ফেরান তোরেস ও নিকো উইলিয়ামস স্পেনের আক্রমণে গতি ও তীব্রতা যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত দুজনের সমন্বয়েই আসে জয়সূচক গোল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ১০ জনে নেমে যাওয়ার পর আরও রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। এপি জানিয়েছে, ১০২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের বদলে ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিকে নামায় আর্জেন্টিনা। সিদ্ধান্তটি পরিস্থিতির কারণে হলেও এতে আক্রমণের পথ আরও সংকুচিত হয়।

ধারাবাহিকতা হারাল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার ধারাবাহিকতা ভাঙার মূল কারণ ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণ। তারা আর্জেন্টিনাকে নিজেদের ছন্দে খেলতে দেয়নি। মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে, মাঝমাঠে চাপ ধরে রেখে এবং আর্জেন্টিনাকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রেখে স্পেন ম্যাচের চরিত্র পাল্টে দেয়।

আরেকটি কারণ ছিল আর্জেন্টিনার বিকল্প পরিকল্পনার অভাব। মেসি যখন খেলার ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না, তখন অন্য কোনো পথে আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি স্কালোনির দল। শট না নেওয়া, লক্ষ্যভেদী শট না থাকা এবং শেষ দিকে লাল কার্ড; সব মিলিয়ে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

ব্যর্থতার মূল কারণ

আর্জেন্টিনার হারের পেছনে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, স্পেন মেসিকে ম্যাচ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। দ্বিতীয়ত, আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটে কোনো শট নিতে পারেনি এবং পুরো ম্যাচে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। তৃতীয়ত, এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড তাদের শেষ পরিকল্পনাও নষ্ট করে দেয়। চতুর্থত, স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা ম্যাচের শেষ ভাগে যে গতি এনেছেন, আর্জেন্টিনা তার জবাব দিতে পারেনি।

মার্তিনেস আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু শুধু গোলরক্ষকের সেভে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতা যায় না। যেখানে মেসি বিচ্ছিন্ন, আক্রমণ শটহীন এবং মাঝমাঠ চাপের মুখে, সেখানে হার এড়ানো আর্জেন্টিনার পক্ষে অসম্ভবই।