বেসরকারি হাসপাতালেও কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে
চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যার ১০ শতাংশ সাধারণ রোগীদের জন্য খালি রাখতে হবে এবং সরকারি রেট অনুযায়ী নির্ধারিত কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে।
এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত কিট, স্যালাইন মজুদসহ সরকারের নানা প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
বেসরকারি হাসপাতালের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রায় দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ বেড খালি রাখতে হবে এবং সরকারি রেট অনুযায়ী নির্ধারিত কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে, এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না।
সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আগাম সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের বর্তমান প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রমের জবাবদিহিতা, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ, ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ততা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উত্তরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। রোগ মোকাবেলায় গত দুই মাস ধরে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মশা ও লার্ভা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট সরকারি গুদামে মজুদ আছে এবং সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৬৬ হাজার আরডিটি টেস্ট কিট মজুদ রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আরো ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের স্যালাইন সংকট যেন না হয়, সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি সংসদে উল্লেখ করেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগ কেন্দ্রীয়ভাবে মজুদ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে যেকোনো পরিমাণ স্যালাইনের চাহিদা মেটাতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য সম্পূরক প্রশ্নে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল রয়েছে দাবি করে বলেন, জেলা সদর হাসপাতালেই আইসিইউ নেই, সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা কীভাবে পৌঁছাবে তা স্পষ্ট নয়। একইসঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকারগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ, সার্জারি ও মেডিসিন চিকিৎসকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের তাগিদ দেন। এ ছাড়া ডেঙ্গু বাড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা থাকবে কিনা তাও জানতে চান।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, তিনি উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে আইসিইউ দেওয়ার কথা বলেননি, তবে দেশের ১২টি জেলা হাসপাতালে ইতিমধ্যে ১০ বেডের আইসিইউ চালু করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনে আরো ৫টি জেলায় তা চালু হবে।



















