০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের সমস্যা প্রচুর কিন্তু সমাধানের পথ কোথায়?

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৮ বার পড়া হয়েছে

এডভোকেট, জিয়াউদ্দিন হিমু

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এক গভীর অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ক্ষমতার রদবদল বা বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হলেও, বাস্তবতা হচ্ছে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের জীবনে তার কোনো ইতিবাচক সুফল প্রতিফলিত হচ্ছে না।

দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি ও তাদের সমর্থকদের পুরোপুরি প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে কিংবা ঢালাওভাবে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার নীতি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারছে না।

সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা অপরাধ প্রমাণ করা ব্যতিরেখে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আটক রাখা হলে সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা নষ্ট হয় এবং এক ধরনের গভীর বিভাজন ও গোপন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা রাষ্ট্রকে ক্রমাগত অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়।

​প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গায়ে বিশেষ রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে চাকরিচ্যুত করা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে এক ধরনের চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

একজন চাকুরিজীবী যখন নিজের কাজের মেধা বা দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি হারানোর ভয়ে থাকেন, তখন প্রশাসনের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থমকে দাঁড়ায়। এই ভীতি ও অনিশ্চয়তার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে, যা রাষ্ট্রের সার্বিক পরিচালনা দক্ষতা ও পরিপূর্ণতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

​এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের সরাসরি মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। চাল, ডাল, সবজিসহ মৌলিক খাদ্যপণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর ওপর জ্বালানি তেলের দাম অযৌক্তিক ও অন্যায্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন উর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক চাপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চরম দিশেহারা অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

​একটি রাষ্ট্রকে সফল ও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো বিশেষ তকমার ওপর ভিত্তি করে বিচারহীনতা কিংবা প্রশাসনিক নিপীড়ন কোনো দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না।

সব স্তরে আতঙ্ক দূর করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে বিশ্বাস অর্জন করা, দেশের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ করা, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করাই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সর্বজনীন স্থায়িত্ব ছাড়া একটি দেশের পক্ষে অর্থনৈতিক স্বস্তি ও সামাজিক শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। দরকার সকল দলের সহবস্থান নিশ্চিত করা, আটকদের মুক্তি প্রদান সহ সকল ধরনের নির্যাতন বন্ধ করা।

জিয়াউদ্দিন হিমু
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

 

বিডিপলিটিক্স২৪.ডটকম/বিইউ

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

মানুষের সমস্যা প্রচুর কিন্তু সমাধানের পথ কোথায়?

আপডেট সময় ০৯:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এক গভীর অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ক্ষমতার রদবদল বা বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হলেও, বাস্তবতা হচ্ছে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের জীবনে তার কোনো ইতিবাচক সুফল প্রতিফলিত হচ্ছে না।

দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি ও তাদের সমর্থকদের পুরোপুরি প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে কিংবা ঢালাওভাবে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার নীতি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারছে না।

সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা অপরাধ প্রমাণ করা ব্যতিরেখে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে আটক রাখা হলে সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা নষ্ট হয় এবং এক ধরনের গভীর বিভাজন ও গোপন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা রাষ্ট্রকে ক্রমাগত অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়।

​প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গায়ে বিশেষ রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে চাকরিচ্যুত করা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে এক ধরনের চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

একজন চাকুরিজীবী যখন নিজের কাজের মেধা বা দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি হারানোর ভয়ে থাকেন, তখন প্রশাসনের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থমকে দাঁড়ায়। এই ভীতি ও অনিশ্চয়তার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে, যা রাষ্ট্রের সার্বিক পরিচালনা দক্ষতা ও পরিপূর্ণতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

​এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের সরাসরি মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। চাল, ডাল, সবজিসহ মৌলিক খাদ্যপণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর ওপর জ্বালানি তেলের দাম অযৌক্তিক ও অন্যায্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন উর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক চাপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চরম দিশেহারা অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

​একটি রাষ্ট্রকে সফল ও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো বিশেষ তকমার ওপর ভিত্তি করে বিচারহীনতা কিংবা প্রশাসনিক নিপীড়ন কোনো দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না।

সব স্তরে আতঙ্ক দূর করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে বিশ্বাস অর্জন করা, দেশের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ করা, বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করাই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সর্বজনীন স্থায়িত্ব ছাড়া একটি দেশের পক্ষে অর্থনৈতিক স্বস্তি ও সামাজিক শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। দরকার সকল দলের সহবস্থান নিশ্চিত করা, আটকদের মুক্তি প্রদান সহ সকল ধরনের নির্যাতন বন্ধ করা।

জিয়াউদ্দিন হিমু
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

 

বিডিপলিটিক্স২৪.ডটকম/বিইউ