০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রয়োজন ফুরিয়েছে? জেন নিন কীভাবে বাতিল করবেন টিআইএন সার্টিফিকেট

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৬:০০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিআইএন সার্টিফিকেট নিলেও সময়ের সঙ্গে অনেকের কাছে এটি আর প্রয়োজনীয় থাকে না। কিন্তু টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় করদাতাদের। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে তৈরি হতে পারে আইনগত জটিলতাও।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তবে ইচ্ছেমতোই টিআইএন নিবন্ধন বাতিল করা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ও আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?

সব পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিল করা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে আবেদন বিবেচনা করা হয়:

ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে।

একাধিক টিআইএন থাকলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে একটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যায়।

প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে।

করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে (তবে শুধু আয় কমলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না)।

দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে এবং দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে।

করদাতার মৃত্যু হলে: করদাতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে পারেন।

যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

এনবিআরের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে বা সরাসরি সার্কেল অফিসে গিয়ে আবেদন করা যায়।

১. অনলাইনে আবেদন: প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ([https://nbr.gov.bd/](https://nbr.gov.bd/)) ভিজিট করে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

২. সরাসরি আবেদন: সরাসরি আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভেয়ে কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন—

টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ

জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি

সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র

টিআইএন বাতিল হলে কী করণীয়?

আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, টিআইএন বাতিল হলেই আগের সব বকেয়া কর বা আইনগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। তাই তাড়াহুড়ো না করে নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রয়োজন ফুরিয়েছে? জেন নিন কীভাবে বাতিল করবেন টিআইএন সার্টিফিকেট

আপডেট সময় ০৬:০০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিআইএন সার্টিফিকেট নিলেও সময়ের সঙ্গে অনেকের কাছে এটি আর প্রয়োজনীয় থাকে না। কিন্তু টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় করদাতাদের। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে তৈরি হতে পারে আইনগত জটিলতাও।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তবে ইচ্ছেমতোই টিআইএন নিবন্ধন বাতিল করা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ও আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?

সব পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিল করা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে আবেদন বিবেচনা করা হয়:

ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে।

একাধিক টিআইএন থাকলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে একটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যায়।

প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে।

করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে (তবে শুধু আয় কমলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না)।

দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে এবং দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে।

করদাতার মৃত্যু হলে: করদাতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে পারেন।

যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

এনবিআরের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে বা সরাসরি সার্কেল অফিসে গিয়ে আবেদন করা যায়।

১. অনলাইনে আবেদন: প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ([https://nbr.gov.bd/](https://nbr.gov.bd/)) ভিজিট করে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

২. সরাসরি আবেদন: সরাসরি আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভেয়ে কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন—

টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ

জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি

সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র

টিআইএন বাতিল হলে কী করণীয়?

আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, টিআইএন বাতিল হলেই আগের সব বকেয়া কর বা আইনগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। তাই তাড়াহুড়ো না করে নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।