ইপিবির ভাইস-চেয়ারম্যান
পোশাকের পর সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হতে পারে ফার্নিচার শিল্প
- আপডেট সময় ০৫:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ০ বার পড়া হয়েছে
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের পর ফার্নিচার শিল্পকে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের আসবাবপত্রের চাহিদা বাড়ছে।
এ খাতের নকশায় বৈচিত্র্য আনা, গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) পাঁচ দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এসব কথা বলেন।
আইসিসিবির দুই, তিন ও চার নম্বর হলে এ মেলা হচ্ছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪৪টি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলায় প্রায় ৩৫০টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। দেশীয় নকশার পাশাপাশি বিদেশি নকশার অনুকরণে তৈরি আধুনিক আসবাবপত্রও স্থান পেয়েছে এবারের মেলায়।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় এবার আসবাবপত্রের নকশা ও বৈচিত্র্যে পরিবর্তন এসেছে। ক্রেতাদের পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক আসবাবপত্র। ঘরবাড়ি, অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেখতে মেলায় আসছেন দর্শনার্থীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইপিবি ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, একসময় দেশের শৌখিন ক্রেতাদের একটি অংশ ঘর ও অফিস সাজানোর জন্য বিদেশ থেকে আসবাবপত্র আমদানি করতেন। বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক নকশা ও মানসম্মত পণ্য তৈরি করায় সেই আমদানিনির্ভরতা কমেছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও আসবাবপত্র রপ্তানি করছেন উদ্যোক্তারা।
তিনি বলেন, বেশ কিছু দেশীয় ব্র্যান্ড বিদেশের বাজারেও আসবাবপত্র রপ্তানি করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফার্নিচার মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। নকশায় বৈচিত্র্য ও দেশীয় বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আসবাবপত্রের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
এ খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। ফার্নিচার শিল্পের নকশায় বৈচিত্র্য আনতে সরকার প্রণোদনা দিয়েছে বলে জানান এ খাতের উদ্যোক্তারা। এছাড়া ফার্নিচার শিল্প বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা এ খাতের প্রযুক্তি, নকশা ও উৎপাদন নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন। এতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে পাঁচ দিন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে। দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা, নতুন নকশার সঙ্গে ক্রেতাদের পরিচয় করানো এবং স্থানীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।





















