নির্বাচিত সরকার আসার পরে পুলিশ বাহিনী অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ০ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচিত সরকার আসার পরে পুলিশ বাহিনী অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২০ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি বিশেষ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক সম্মানী প্রদান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানুষের মধ্যে যে ধারণাটা ইতোপূর্বে ছিল, আমাদের পুলিশ বাহিনী হয়তো নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু আমি দেখছি ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আমাদের পুলিশ বাহিনী তার যে মোরাল বেস, মোরাল কারেজ সেটা ফিরে পেয়েছে, খুব শীঘ্রই মানে খুব তড়িৎগতিতে। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার পরে তারা এত বেশি সক্রিয় হয়েছে, দায়িত্ব পালন করছে এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছে সেটা লক্ষণীয়।
তাদের এই কৃতিত্বের জন্য তাদের সম্মান করা উচিত। আমি উৎসাহ প্রদান করছি যাতে বাকি সবাই অনুপ্রাণিত হয় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হয় এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী যাতে আমরা বাহিনী গঠন করতে পারি- এই প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুরস্কৃত হওয়া ট্রাফিক কনস্টেবল মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ (জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব উদ্যোগে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য ২০,০০০ টাকা ও আইজিপি ব্যাজ প্রাপ্ত) মোট চারটি চাঞ্চল্যকর ও প্রশংসনীয় ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পানিশমেন্ট অ্যান্ড রিওয়ার্ড’ (শাস্তি ও পুরস্কার) নীতি কার্যকর করেছে। কর্তব্যকাজে আন্তরিকতা ও সততা প্রদর্শনকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয়তা, গাফিলতি বা দুর্নীতিতে লিপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অপরাধ প্রবণতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা রাতারাতি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব না হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনি ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত সম্পন্ন করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর এবং ওসির বিরুদ্ধে প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মংলার কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুযায়ী কাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত মিরাজের অনুসারীরা কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালালে কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয় এবং বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুরস্কারের আওতায় আসা ঘটনা চারটি হলো যথাক্রমে জনভোগান্তি লাঘবে ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ; আদাবরে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও সাহসিকতা; আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার এবং চকরিয়ায় আলোচিত ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা।
(১) জনভোগান্তি লাঘবে ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ: গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে ভারী বর্ষণের কারণে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের লুপ-টু নামার প্রান্তে সড়কের পানি নিষ্কাশন ড্রেনের মুখে ব্যাপক ময়লা-আবর্জনা জমে পানি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ডিউটিরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে নিজ হাতে ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন, যার ফলে দ্রুত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো এই প্রশংসনীয় কাজের জন্য ট্রাফিক গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামানকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’, অর্থ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
(২) আদাবরে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও সাহসিকতা: গত ১৬ জুন আদাবর থানার মফিজবাগ এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযানকালে ছিনতাইকারীদের অতর্কিত হামলায় আদাবর থানার ওসি এবং একজন এসআই গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতে ২ জন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আভিযানিক দলের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বিপিএম, পিপিএম (অফিসার ইনচার্জ), এসআই তরুণ কুমার, এএসআই আব্দুল্লাহ সাহাক সবুজ, এএসআই সুধন চন্দ্র দে, এএসআই মো. শরিফুল ইসলাম এবং এএসআই মো. রবিউল ইসলামকে পুরস্কৃত করা হয়।
(৩) আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার: চট্টগ্রামের আনোয়ারার চেনামতি এলাকায় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বিত টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে পটিয়া থেকে মূল আসামি রিমন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় রাসেল পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি); এসআই শিমুল চন্দ্র দাস (তদন্তকারী কর্মকর্তা); এসআই মোহাম্মদ আবু সেলিম রেজা এবং কনস্টেবল মো. রিমন হোসেন, পিপিএম-কে পুরস্কৃত করা হয়।
(৪) চকরিয়ায় আলোচিত ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা: কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকায় বসতবাড়ির গ্রিল কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুণ্ঠন এবং বাড়িতে অবস্থানরত মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনায় মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ভিকটিমদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং দ্রুততম সময়ে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে ২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় মো. মাসুদ (পুলিশ পরিদর্শক, ইনচার্জ, মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র), এএসআই সজীব দাস, কনস্টেবল মাহফুজুর রহমান এবং কনস্টেবল হেফাজত হোসেনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।



















