০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের ফুটবলাররা মোজায় ছিদ্র করেন কেন?

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

এই বিশ্বকাপে যেন কিছু একটা নেই। গোল, নাটকীয়তা বা চমকপ্রদ গল্পের অভাব নয়, এসবের কোনো ঘাটতি নেই।

বরং নজর দেওয়া যেতে পারে ফুটবলারদের মোজার দিকে, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ছিদ্রে ভরা। মোজার পেছনের অংশ কেটে ছিদ্র করার এই প্রবণতা নতুন নয়।

অন্তত আট বছর ধরে এটি দেখা যাচ্ছে। তবে এটি যে ক্ষণস্থায়ী কোনো ফ্যাশন নয়, তা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দেখলেই বোঝা যায়। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অনেক খেলোয়াড়কেই কাঁচি চালাতে দেখা গেছে তাদের মোজায়। কিন্তু তারা এমনটা করেন কেন? এর কোনো উপকারিতা আছে কি?

মূল কারণ হলো আরাম।

আধুনিক ফুটবল মোজা সাধারণত পলিয়েস্টার দিয়ে তৈরি। এই উপাদান সহজে আকার হারায় না এবং পানি কম শোষণ করে। তবে অনেক সময় এগুলো খুব টাইট বা আঁটসাঁট মনে হতে পারে।
কিছু খেলোয়াড় বিশ্বাস করেন, মোজায় ছিদ্র করলে পায়ের পেছনের পেশি বা কাফে চাপ কমে, ফলে সেখানে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং খিঁচুনি বা চোটের ঝুঁকি কমে।

তাদের মতে, এতে চলাফেরার স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে, যা মাঠে ভালো পারফরম্যান্সে সহায়তা করে।

এটি অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নয়। তবে অনেক খেলোয়াড়ের কাছে এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও একটি উপায়। আর মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করলে তার ইতিবাচক প্রভাব পারফরম্যান্সেও পড়তে পারে।

ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার ফ্রাঙ্ক নুবলে ২০২৩ সালে দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছিলেন, দেখতে ভালো লাগলে ভালো অনুভব হয়, আর ভালো খেলাও যায়। মাঠে যতটা সম্ভব আরামদায়ক থাকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
ড. রাজ ব্রার ২০২৩ সালে টিফো ফুটবলকে বলেন, মোজায় ছিদ্র করলে চোট বা খিঁচুনি প্রতিরোধ হয়—এমন কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই।

তার ভাষায়, কাফের ওপর চাপ কমানোর চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক উপায় হলো ঠিক উল্টোটা। খেলার মাঝখানে নয়, বরং ম্যাচের পর বেশি চাপযুক্ত কমপ্রেশন মোজা ব্যবহার করা।

তিনি বলেন, এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ফোলাভাব কমে। তাছাড়া ফুটবলারদের কাফ পেশি এত বেশি সক্রিয় থাকে যে, রক্তসঞ্চালন নিয়ে তাদের সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কি বিকল্প দিতে পারে?
ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হামেল-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী অ্যালান ভাড নিয়েলসেন বলেন, কিছু ব্র্যান্ড তাদের লোগোকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে মোজা খুব আঁটসাঁটভাবে তৈরি করে, যা কিছু খেলোয়াড়ের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে।

তবে আধুনিক উপকরণ ও প্রযুক্তির কারণে এখন মোজায় বিশেষ কুশনিং জোন, কমপ্রেশন জোন এবং বায়ু চলাচলের সুবিধা যোগ করা হচ্ছে, যা আরাম ও পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করে।

সবাই কি এই প্রবণতার সমর্থক?
একেবারেই না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল ২০২৪ সালে তার পডকাস্টে এই প্রবণতার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, তাদের কাছে শত শত জোড়া বুট আছে, সবকিছু মাপমতো তৈরি করা হয়। আমি বিশ্বাস করি না যে নাইকি বা অন্য কোনো স্পনসর তাদের জন্য একটু বড় মাপের মোজা তৈরি করতে পারে না।

নিচের স্তরের ফুটবলে সমস্যা
পেশাদার ফুটবলের বাইরে বিষয়টি আরেক ধরনের সমস্যাও তৈরি করেছে। ইংল্যান্ডের অপেশাদার ক্লাব নর্থউড এফসিতে মোজা কাটার কারণে অতিরিক্ত খরচ বাড়তে থাকে।

ক্লাবটির সেক্রেটারি অ্যালান ইভান্স ২০২৩ সালে দ্য অ্যাথলেটিককে জানান, খেলোয়াড়রা যাতে অযথা মোজা নষ্ট না করেন, সে কারণে তাদের নিজেদের মোজার খরচ নিজেদেরই বহন করতে বলা হয়েছিল।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের ফুটবলাররা মোজায় ছিদ্র করেন কেন?

আপডেট সময় ০৫:১৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

এই বিশ্বকাপে যেন কিছু একটা নেই। গোল, নাটকীয়তা বা চমকপ্রদ গল্পের অভাব নয়, এসবের কোনো ঘাটতি নেই।

বরং নজর দেওয়া যেতে পারে ফুটবলারদের মোজার দিকে, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ছিদ্রে ভরা। মোজার পেছনের অংশ কেটে ছিদ্র করার এই প্রবণতা নতুন নয়।

অন্তত আট বছর ধরে এটি দেখা যাচ্ছে। তবে এটি যে ক্ষণস্থায়ী কোনো ফ্যাশন নয়, তা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দেখলেই বোঝা যায়। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অনেক খেলোয়াড়কেই কাঁচি চালাতে দেখা গেছে তাদের মোজায়। কিন্তু তারা এমনটা করেন কেন? এর কোনো উপকারিতা আছে কি?

মূল কারণ হলো আরাম।

আধুনিক ফুটবল মোজা সাধারণত পলিয়েস্টার দিয়ে তৈরি। এই উপাদান সহজে আকার হারায় না এবং পানি কম শোষণ করে। তবে অনেক সময় এগুলো খুব টাইট বা আঁটসাঁট মনে হতে পারে।
কিছু খেলোয়াড় বিশ্বাস করেন, মোজায় ছিদ্র করলে পায়ের পেছনের পেশি বা কাফে চাপ কমে, ফলে সেখানে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং খিঁচুনি বা চোটের ঝুঁকি কমে।

তাদের মতে, এতে চলাফেরার স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ে, যা মাঠে ভালো পারফরম্যান্সে সহায়তা করে।

এটি অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নয়। তবে অনেক খেলোয়াড়ের কাছে এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও একটি উপায়। আর মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করলে তার ইতিবাচক প্রভাব পারফরম্যান্সেও পড়তে পারে।

ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার ফ্রাঙ্ক নুবলে ২০২৩ সালে দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছিলেন, দেখতে ভালো লাগলে ভালো অনুভব হয়, আর ভালো খেলাও যায়। মাঠে যতটা সম্ভব আরামদায়ক থাকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
ড. রাজ ব্রার ২০২৩ সালে টিফো ফুটবলকে বলেন, মোজায় ছিদ্র করলে চোট বা খিঁচুনি প্রতিরোধ হয়—এমন কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই।

তার ভাষায়, কাফের ওপর চাপ কমানোর চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক উপায় হলো ঠিক উল্টোটা। খেলার মাঝখানে নয়, বরং ম্যাচের পর বেশি চাপযুক্ত কমপ্রেশন মোজা ব্যবহার করা।

তিনি বলেন, এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ফোলাভাব কমে। তাছাড়া ফুটবলারদের কাফ পেশি এত বেশি সক্রিয় থাকে যে, রক্তসঞ্চালন নিয়ে তাদের সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কি বিকল্প দিতে পারে?
ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হামেল-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী অ্যালান ভাড নিয়েলসেন বলেন, কিছু ব্র্যান্ড তাদের লোগোকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে মোজা খুব আঁটসাঁটভাবে তৈরি করে, যা কিছু খেলোয়াড়ের কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে।

তবে আধুনিক উপকরণ ও প্রযুক্তির কারণে এখন মোজায় বিশেষ কুশনিং জোন, কমপ্রেশন জোন এবং বায়ু চলাচলের সুবিধা যোগ করা হচ্ছে, যা আরাম ও পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করে।

সবাই কি এই প্রবণতার সমর্থক?
একেবারেই না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল ২০২৪ সালে তার পডকাস্টে এই প্রবণতার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, তাদের কাছে শত শত জোড়া বুট আছে, সবকিছু মাপমতো তৈরি করা হয়। আমি বিশ্বাস করি না যে নাইকি বা অন্য কোনো স্পনসর তাদের জন্য একটু বড় মাপের মোজা তৈরি করতে পারে না।

নিচের স্তরের ফুটবলে সমস্যা
পেশাদার ফুটবলের বাইরে বিষয়টি আরেক ধরনের সমস্যাও তৈরি করেছে। ইংল্যান্ডের অপেশাদার ক্লাব নর্থউড এফসিতে মোজা কাটার কারণে অতিরিক্ত খরচ বাড়তে থাকে।

ক্লাবটির সেক্রেটারি অ্যালান ইভান্স ২০২৩ সালে দ্য অ্যাথলেটিককে জানান, খেলোয়াড়রা যাতে অযথা মোজা নষ্ট না করেন, সে কারণে তাদের নিজেদের মোজার খরচ নিজেদেরই বহন করতে বলা হয়েছিল।