লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল নেমে এল ১ হাজারে, কর্মচারী প্রত্যাহার
- আপডেট সময় ০৪:৪৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর চাটখিলে পল্লী বিদ্যুতের এক আবাসিক গ্রাহকের সেপ্টেম্বর মাসের বিল আসে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। ঘরে কয়েকটি বাতি-ফ্যান আর ফ্রিজ চালিয়ে এমন বিল আসায় হতবাক হয়েছিলেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ওই গ্রাহকের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তার বিদ্যুৎ বিলটি সংশোধন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংশোধিত বিদ্যুৎ বিল অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসের বিল পরিশোধ করেন গ্রাহক। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ হাজার ১৮২ টাকা বিল পরিশোধ করেন তিনি। এ ঘটনায় অফিসের বিলি সহকারী মমতাজ বেগমকে তার কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের নামে থাকা বিদ্যুৎ মিটারটি বর্তমানে ব্যবহার করেন তার নাতি শহীদুল ইসলাম রনি। সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ওই মিটারে ছয় হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়। ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। অথচ ওই পরিবারে গত পাঁচ মাসের গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ১৮৭ ইউনিট।
অস্বাভাবিক এই বিলের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের। পরে ভুল সংশোধন করে দ্রুত নতুন বিল দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহক শহীদুল ইসলাম রনি জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাটখিল জোনাল অফিসের ডিজিএম ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) তার বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিলের কপি পৌঁছে দেন।
সংশোধিত বিদ্যুত বিল করা হয় ১ হাজার ১ শত বিরাশি টাকা। গ্রাহক তা হাতে পাওয়ার পরই তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তা পরিশোধ করেন।
ভুতুড়ে বিলের সংবাদ প্রকাশের পর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ভবিষ্যতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের গাফিলতি রোধে বিদ্যুৎ বিভাগ আরও সতর্ক থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষকে এমন আকস্মিক হয়রানির শিকার হতে না হয় সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল জোনাল অফিসের ডিজিএম জুনায়দুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহকের মূল বিলের কপিটি দেখার পর আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। এটি সম্পূর্ণ ভুলবশত ঘটেছে। মাঠপর্যায়ে বিল প্রস্তুত বা ডেটা এন্ট্রির সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসঙ্গতি তৈরি হয়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই দ্রুত মিটার পরীক্ষা করে সঠিক বিল প্রস্তুতের নির্দেশনা দিই এবং গ্রাহক হয়রানি লাঘবে রাতেই বাড়ি গিয়ে সংশোধিত বিলটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিলি সহকারী মমতাজ বেগমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে সেনবাগ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপর মহাব্যবস্থাপক মিনারুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তারা তাদের রিপোর্ট দেবেন।
বিল সংশোধনের বিষয় নিশ্চিত করে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মকবুল আহমেদ জানান যিনি মিটারের রিডিং নিয়েছেন তিনি ঠিক নিয়েছেন অফিসের বিলিং সহকারী ভুল কেন করেছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইননুযয়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন না সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।





















