০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, এরপর কী?

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

সুইজারল্যান্ডে বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (মাঝে) এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রথম দিন শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ’ নিয়ে একমত হয়েছে। তাদের ভাষায়, আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।

এই আলোচনা ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ধারাবাহিকতা, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কাঠামো তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করে।

লেক লুসার্নে অনুষ্ঠিত প্রায় ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’, উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

তার সঙ্গে ছিলেন জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও যোগাযোগ চ্যানেল
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার রাজনৈতিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ অনুমোদন করেছে। আগামী দুই মাসে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে কমিটিকে অগ্রগতির তথ্য জানাবেন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিচালনা করবেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো থমাস ওয়ারিকের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতার চেয়ে কারিগরি আলোচনা আরও কঠিন হতে পারে এবং তা ৬০ দিনেরও বেশি সময় নিতে পারে।

এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে কি না, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের পরিধি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি।

ওয়ারিক বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ বা নিম্নমাত্রায় নামিয়ে আনার জন্য হাজারো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে এবং এতে মার্কিন অংশগ্রহণের বিষয়টি ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা
দুই পক্ষ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করেছে, যার লক্ষ্য ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাত এড়িয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনীতিতে পড়ে।

লেবাননের জন্য ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠন।

আরাগচি বলেছেন, লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতাই হবে চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রয়োজন মনে করা পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে যাবে না।

বর্তমানে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনটি লেবাননের প্রায় ৬ শতাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবানন ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, অন্যথায় ২০০০ সালের মতো অপমানজনক প্রত্যাহারের মুখোমুখি হতে হবে।

হিজবুল্লাহ এখনও প্রকাশ্যে এ চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেনি।

লেবানন নিয়ে সংশয়
অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও লেবানন ও ইসরায়েলের ওপর এই ব্যবস্থার বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোয়ি হুডের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লেবাননের বিষয়ে ইরানকে কার্যত ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে, এমনকি তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর প্রভাবকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে।

আরেক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মার্ক কিমিট মনে করেন, বৃহত্তর আলোচনায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করায় পুরো প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় সংঘাত কিছুটা কমেছে বলে মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ সম্পদ
আরাগচি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে।

তার দাবি অনুযায়ী, ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, জব্দকৃত কিছু সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য বড় একটি পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এগুলো ছিল ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তবে থমাস ওয়ারিক সতর্ক করে বলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বাস্তবায়ন করা ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

তার ভাষায়, ‘কংগ্রেস এই চুক্তি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় এবং ইরান যেসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়, সেগুলো অনুমোদনে কংগ্রেস সম্মত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, এরপর কী?

আপডেট সময় ০৬:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রথম দিন শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ’ নিয়ে একমত হয়েছে। তাদের ভাষায়, আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।

এই আলোচনা ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ধারাবাহিকতা, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কাঠামো তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করে।

লেক লুসার্নে অনুষ্ঠিত প্রায় ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’, উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

তার সঙ্গে ছিলেন জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও যোগাযোগ চ্যানেল
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার রাজনৈতিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ অনুমোদন করেছে। আগামী দুই মাসে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে কমিটিকে অগ্রগতির তথ্য জানাবেন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিচালনা করবেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো থমাস ওয়ারিকের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতার চেয়ে কারিগরি আলোচনা আরও কঠিন হতে পারে এবং তা ৬০ দিনেরও বেশি সময় নিতে পারে।

এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে কি না, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের পরিধি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি।

ওয়ারিক বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ বা নিম্নমাত্রায় নামিয়ে আনার জন্য হাজারো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে এবং এতে মার্কিন অংশগ্রহণের বিষয়টি ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা
দুই পক্ষ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করেছে, যার লক্ষ্য ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাত এড়িয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনীতিতে পড়ে।

লেবাননের জন্য ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠন।

আরাগচি বলেছেন, লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতাই হবে চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রয়োজন মনে করা পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েল সরে যাবে না।

বর্তমানে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনটি লেবাননের প্রায় ৬ শতাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবানন ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, অন্যথায় ২০০০ সালের মতো অপমানজনক প্রত্যাহারের মুখোমুখি হতে হবে।

হিজবুল্লাহ এখনও প্রকাশ্যে এ চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেনি।

লেবানন নিয়ে সংশয়
অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও লেবানন ও ইসরায়েলের ওপর এই ব্যবস্থার বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোয়ি হুডের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লেবাননের বিষয়ে ইরানকে কার্যত ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে, এমনকি তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর প্রভাবকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে।

আরেক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মার্ক কিমিট মনে করেন, বৃহত্তর আলোচনায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করায় পুরো প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় সংঘাত কিছুটা কমেছে বলে মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ সম্পদ
আরাগচি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে।

তার দাবি অনুযায়ী, ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, জব্দকৃত কিছু সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য বড় একটি পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এগুলো ছিল ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তবে থমাস ওয়ারিক সতর্ক করে বলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বাস্তবায়ন করা ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

তার ভাষায়, ‘কংগ্রেস এই চুক্তি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় এবং ইরান যেসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়, সেগুলো অনুমোদনে কংগ্রেস সম্মত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’