০৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মেসি-রোনালদো যুগের অবসান: বিশ্ব ফুটবলের রাজত্ব এখন ইয়ামালদের হাতে

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের সম্ভাব্য ‘শেষ বিশ্বকাপ’ ঘিরে ভক্তদের যে উন্মাদনা ছিল, টুর্নামেন্টের শেষটা হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপকথায়।

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। এর মাধ্যমেই বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশকের এক সাম্রাজ্যের পতনের পর শুরু হলো এক নতুন যুগের রাজত্ব।

ফাইনালের মহারণে জয়সূচক গোলটি ফেরান তোরেসের পা থেকে আসলেও, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে স্প্যানিশদের জয়ের মূল ভিত্তি ছিল তাদের তরুণ তুর্কিরা। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন লামিনে ইয়ামাল।

অন্যদিকে রক্ষণভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন ১৯ বছর বয়সী আরেক তরুণ পাউ কুবার্সি।

এর সঙ্গে যোগ হয় মাঝমাঠের কাণ্ডারি রদ্রির টুর্নামেন্ট সেরা ‘গোল্ডেন বল’ জয় এবং গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমন ‘সেরা গোলরক্ষক’-এর পুরস্কার অর্জন।

‘গোল্ডেন গ্লাভস’, ‘গোল্ডেন বল’ থেকে শুরু করে উদীয়মান তারকার সম্মান; সবটাই নিজেদের দখলে নিয়ে টুর্নামেন্টে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে স্প্যানিশরা।
পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা স্পেন আট ম্যাচে হজম করেছে মাত্র একটি গোল। ফাইনালেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বল দখল ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের একের পর এক দারুণ সেভ আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে অবশেষে ডেডলক ভাঙে লা রোখারা।

ফাইনালের এই লড়াই ছিল মূলত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে। আর্জেন্টিনা ফুটবল যেখানে ২০২২ সালের ট্রফি জয়ী এবং মেসি নেতৃত্বাধীন প্রজন্মের শেষ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে, সেখানে স্পেন মাঠে নামিয়েছিল এমন এক দল যাদের অধিকাংশ সদস্যই ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অনায়াসে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে।

গত প্রায় বিশ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ, বাণিজ্যিক সাফল্য ও ব্যক্তিগত সব রেকর্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি ও রোনালদো। অন্যদিকে নেইমারও এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলকে বিশ্বসেরার আসনে ফেরানোর স্বপ্ন বয়ে বেড়িয়েছেন। আসর শুরু হওয়ার আগে প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাতারকাদের ‘লাস্ট ড্যান্স’। কিন্তু টুর্নামেন্টের সমাপ্তি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা শুরু হয়ে গেছে।

ইয়ামাল ও কুবার্সির পাশাপাশি এন্দ্রিক, জোয়াও নেভেস, ফ্লোরিয়ান ভিরৎস, জামাল মুসিয়ালা এবং দেসিরে দুয়ের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের মূল মঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। মেসি-রোনালদোদের বিদায়ী মঞ্চ তাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো আগামী এক দশকের ফুটবল শাসন করার মতো এক নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের উৎসবে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

মেসি-রোনালদো যুগের অবসান: বিশ্ব ফুটবলের রাজত্ব এখন ইয়ামালদের হাতে

আপডেট সময় ০৬:০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের সম্ভাব্য ‘শেষ বিশ্বকাপ’ ঘিরে ভক্তদের যে উন্মাদনা ছিল, টুর্নামেন্টের শেষটা হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপকথায়।

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। এর মাধ্যমেই বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশকের এক সাম্রাজ্যের পতনের পর শুরু হলো এক নতুন যুগের রাজত্ব।

ফাইনালের মহারণে জয়সূচক গোলটি ফেরান তোরেসের পা থেকে আসলেও, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে স্প্যানিশদের জয়ের মূল ভিত্তি ছিল তাদের তরুণ তুর্কিরা। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন লামিনে ইয়ামাল।

অন্যদিকে রক্ষণভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন ১৯ বছর বয়সী আরেক তরুণ পাউ কুবার্সি।

এর সঙ্গে যোগ হয় মাঝমাঠের কাণ্ডারি রদ্রির টুর্নামেন্ট সেরা ‘গোল্ডেন বল’ জয় এবং গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমন ‘সেরা গোলরক্ষক’-এর পুরস্কার অর্জন।

‘গোল্ডেন গ্লাভস’, ‘গোল্ডেন বল’ থেকে শুরু করে উদীয়মান তারকার সম্মান; সবটাই নিজেদের দখলে নিয়ে টুর্নামেন্টে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে স্প্যানিশরা।
পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা স্পেন আট ম্যাচে হজম করেছে মাত্র একটি গোল। ফাইনালেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বল দখল ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের একের পর এক দারুণ সেভ আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে অবশেষে ডেডলক ভাঙে লা রোখারা।

ফাইনালের এই লড়াই ছিল মূলত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে। আর্জেন্টিনা ফুটবল যেখানে ২০২২ সালের ট্রফি জয়ী এবং মেসি নেতৃত্বাধীন প্রজন্মের শেষ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে, সেখানে স্পেন মাঠে নামিয়েছিল এমন এক দল যাদের অধিকাংশ সদস্যই ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অনায়াসে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে।

গত প্রায় বিশ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ, বাণিজ্যিক সাফল্য ও ব্যক্তিগত সব রেকর্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি ও রোনালদো। অন্যদিকে নেইমারও এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলকে বিশ্বসেরার আসনে ফেরানোর স্বপ্ন বয়ে বেড়িয়েছেন। আসর শুরু হওয়ার আগে প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাতারকাদের ‘লাস্ট ড্যান্স’। কিন্তু টুর্নামেন্টের সমাপ্তি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা শুরু হয়ে গেছে।

ইয়ামাল ও কুবার্সির পাশাপাশি এন্দ্রিক, জোয়াও নেভেস, ফ্লোরিয়ান ভিরৎস, জামাল মুসিয়ালা এবং দেসিরে দুয়ের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের মূল মঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। মেসি-রোনালদোদের বিদায়ী মঞ্চ তাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো আগামী এক দশকের ফুটবল শাসন করার মতো এক নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের উৎসবে।