কিশোর গ্যাং কি শুধু কিশোরদের দল, নাকি ক্ষমতার কাঠামো?
- আপডেট সময় ০৩:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
ঈদের আনন্দে গ্রামে গিয়েছিলাম। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটাব—এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু ঈদের আনন্দের মধ্যেও গ্রামের একটি দৃশ্য আমাকে ভাবিয়েছে। পাশের বাড়ির কয়েকজন কিশোরের আচরণে এক ধরনের দাপট, ভয় দেখানোর প্রবণতা এবং অস্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস চোখে পড়ল। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ কিশোরসুলভ উচ্ছৃঙ্খলতা মনে হয়েছিল। পরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, এর পেছনে শুধু কিশোরদের নিজেদের সাহস নয়; স্থানীয় ক্ষমতার একটি অদৃশ্য সমর্থন কাজ করছে—এমন অভিযোগ ও ধারণা রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা আমাকে একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে—কিশোর গ্যাং কি কেবল কিছু বখে যাওয়া কিশোরের দল, নাকি এটি স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর একটি অনানুষ্ঠানিক অংশে পরিণত হচ্ছে?
প্রশ্নটি অস্বস্তিকর। কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ংকর রূপ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং একটি কিশোরের ভবিষ্যৎ।
কিশোর গ্যাং বলতে কী বোঝায়?
সাধারণভাবে কিশোর গ্যাং বলতে এমন একটি দলকে বোঝানো হয়, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা তরুণ বয়সী কয়েকজন কিশোর সংগঠিত হয়ে নিজেদের মধ্যে দলীয় পরিচয়, আনুগত্য ও প্রভাব তৈরি করে এবং কখনো কখনো ভয় দেখানো, মারামারি, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অস্ত্র বহন কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
তবে প্রতিটি কিশোরের বন্ধুবান্ধবের দলকে ‘গ্যাং’ বলা যাবে না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, খেলাধুলা করা বা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা অপরাধ নয়। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন একটি দল সহিংসতা, ভয় প্রদর্শন, অপরাধ, আধিপত্য এবং আইন অমান্য করার সংস্কৃতিকে নিজেদের পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলে।
বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের দলীয় সহিংসতা, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে জড়ানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালে The Daily Star কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এবং তাদের সঙ্গে সহিংসতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগের কথা তুলে ধরেছিল।
কিশোর গ্যাং কেন তৈরি হয়?
কোনো কিশোর একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ ‘গ্যাংস্টার’ হয়ে যায় না। এর পেছনে থাকে পরিবার, পরিবেশ, বন্ধুমহল, সামাজিক বৈষম্য, মূল্যবোধের সংকট, বেকারত্ব, বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অভাব, মাদকের সহজলভ্যতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভুল আদর্শের প্রভাব।
একজন কিশোর যখন দেখে, এলাকায় আইন মেনে চলা মানুষটি হয়তো অসহায়; আর ভয় দেখাতে পারা মানুষটি দ্রুত পরিচিতি, অর্থ কিংবা সামাজিক প্রভাব পাচ্ছে, তখন তার কাছে ক্ষমতার সংজ্ঞা বদলে যেতে পারে।
সে ভাবতে শুরু করে—ভালো মানুষ হয়ে সম্মান পাওয়ার চেয়ে ভয় দেখিয়ে সম্মান আদায় করা সহজ।
এই জায়গাটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
পরিবারে পর্যাপ্ত সময় ও নজরদারির অভাব, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, মাদকাসক্তি, সহিংস পরিবেশ এবং অপরাধী বড়দের সঙ্গে যোগাযোগ একজন কিশোরকে ধীরে ধীরে অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইউনিসেফের বাংলাদেশবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিশুদের সহিংসতা, সুরক্ষা, পরিবার ও সামাজিক পরিবেশের ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের Child Rights Manifesto-তেও শিশুদের সহিংসতা ও ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়াকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ংকর দিক কোথায়?
কিশোর গ্যাংয়ের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—অপরাধের সঙ্গে বয়সের দূরত্ব কমে আসা।
একটি কিশোর যখন প্রথমবার কারও সঙ্গে মারামারি করে এবং কোনো পরিণতি ভোগ করে না, তখন তার মধ্যে অপরাধের ভয় কমতে থাকে। দ্বিতীয়বার সে আরও সাহসী হয়। তৃতীয়বার হয়তো হাতে উঠে আসে দেশীয় অস্ত্র। এরপর শুরু হতে পারে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা বড় অপরাধীদের হয়ে কাজ করা।
এখানে শুধু একজন কিশোরের জীবন নষ্ট হয় না। নষ্ট হয় একটি পরিবার, একটি পাড়া এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমাজের নিরাপত্তা।
আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হলো, কিশোরদের ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ। তারা অনেক সময় বুঝতে পারে না যে, যাদের জন্য তারা ঝুঁকি নিচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই ব্যক্তিরাই হয়তো তাদের পাশে থাকবে না।
আজ যে কিশোর কারও হয়ে হুমকি দিচ্ছে, কাল সে নিজেই মামলার আসামি হতে পারে। আজ যে কিশোরকে সামনে রেখে অন্য কেউ প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই কিশোরের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও সামাজিক পরিচয় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তাহলে কি কিশোর গ্যাং একটি ক্ষমতা কাঠামো?
আমার কাছে এই প্রশ্নটির উত্তর সরল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়।
সব কিশোর গ্যাং রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত—এমন দাবি করার মতো তথ্য নেই। আবার রাজনৈতিক বা স্থানীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো কোনো কিশোর গ্যাংয়ের যোগাযোগ বা পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে এসেছে।
সমস্যাটি তখনই গভীর হয়, যখন কোনো কিশোর দল বুঝতে পারে—‘আমাদের পেছনে বড় কেউ আছে।’
এই একটি বিশ্বাসই তাদের আচরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে।
আইনের ভয় কমে যায়। সামাজিক জবাবদিহিতা কমে যায়। তারা মনে করে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেও ‘উপরে’ যোগাযোগ আছে।
এখানেই কিশোর গ্যাং একটি সামাজিক সমস্যা থেকে স্থানীয় ক্ষমতার অনানুষ্ঠানিক হাতিয়ারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
রাজনীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকলে বিষয়টি আরও ভয়ংকর। কারণ তখন কিশোরদের অপরাধ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না; এটি হয়ে ওঠে ক্ষমতার প্রতিযোগিতার অংশ।
এক পক্ষের বিরুদ্ধে আরেক পক্ষকে ভয় দেখানো, মিছিল-মিটিংয়ে লোক জড়ো করা, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া, এলাকায় আধিপত্য দেখানো কিংবা সামাজিক বিরোধে প্রভাব বিস্তারের জন্য কিশোরদের ব্যবহার করা হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় কিশোরদেরই।
কারণ ক্ষমতাবান প্রাপ্তবয়স্করা রাজনীতি পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদলাতে পারেন। কিন্তু একটি কিশোরের নামে তৈরি হওয়া মামলা, অপরাধের রেকর্ড কিংবা সামাজিক বদনাম তার জীবনের দীর্ঘ সময় বহন করতে হয়।
গ্রামের কিশোর গ্যাং—শহরের চেয়ে কি আলাদা?
আমরা প্রায়ই মনে করি কিশোর গ্যাং মানেই রাজধানী বা বড় শহরের সমস্যা। বাস্তবে গ্রামও এর বাইরে নয়।
গ্রামের সামাজিক সম্পর্কের ধরন শহরের তুলনায় ভিন্ন। এখানে সবাই সবাইকে চেনে। ফলে কোনো কিশোর দলের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী কারও আশীর্বাদ আছে—এমন ধারণা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পান।
আমার ঈদের গ্রামের অভিজ্ঞতাতেও আমি এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি। সেখানে কিশোরদের আচরণে যে আত্মবিশ্বাস দেখেছিলাম, তা শুধু তাদের বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়নি; বরং মনে হয়েছে, তারা নিজেদের পেছনে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি অনুভব করছে।
এটি আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে এটি দেখা উচিত নয়। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আনে—গ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব যদি কিশোরদের ভুল কাজে ব্যবহার করে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোথায় দাঁড়াবে?
একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?
কিশোর বয়স মানুষের চরিত্র ও ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে একজন কিশোরকে বই, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু সেই বয়সে যদি তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ভয় দেখানোর ক্ষমতা, অবৈধ অর্থ, মাদক কিংবা অস্ত্র—তাহলে তার ভবিষ্যতের পথটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসে।
একজন সম্ভাবনাময় ছাত্র হয়ে উঠতে পারত যে কিশোর, সে হয়ে যেতে পারে অপরাধী। একজন উদ্যোক্তা হতে পারত, সে হয়তো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। একজন সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ কিংবা সরকারি কর্মকর্তা হতে পারত যে তরুণ, সে হয়তো মামলার বোঝা নিয়ে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াতে পারে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো—এই পতনের শুরুতে কিশোরটি হয়তো বুঝতেই পারে না যে সে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।
প্রতিকার কোথায়?
কিশোর গ্যাং দমনে শুধু গ্রেপ্তার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। আইন প্রয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তার পাশাপাশি প্রয়োজন পুনর্বাসন ও প্রতিরোধ।
প্রথমত, পরিবারকে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, কী ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর আচরণ ও মানসিক বিকাশের দিকেও নজর দিতে হবে।
তৃতীয়ত, গ্রাম ও শহরে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, বইপড়া, স্বেচ্ছাসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। একটি কিশোরকে যদি ইতিবাচক পরিচয় ও নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে সে নেতিবাচক নেতৃত্বের দিকে কম আকৃষ্ট হতে পারে।
চতুর্থত, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কিশোর অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান প্রকাশের ব্যবস্থাও রয়েছে; কিশোর অপরাধের প্রবণতা বুঝতে আরও নির্দিষ্ট ও বয়সভিত্তিক তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পঞ্চমত, কিশোর অপরাধীদের ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার। শিশুদের সঙ্গে আইনগত আচরণে তাদের বয়স ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশে শিশুদের বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নও হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা।
কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় নেতা কিংবা প্রভাবশালী নাগরিকের উচিত নয় কিশোরদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা।
কারণ একটি কিশোরকে দিয়ে আজ হয়তো প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো যায়, কিন্তু সেই কিশোরের হাতে তৈরি হওয়া অপরাধের সংস্কৃতি একদিন পুরো সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কিশোরকে অপরাধী নয়, নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে
আমরা যখন ‘কিশোর গ্যাং’ বলি, তখন অনেক সময় কিশোরটির পরিচয়ের আগে তার অপরাধকে বসিয়ে দিই। কিন্তু মনে রাখতে হবে—একজন কিশোর এখনও পরিবর্তনের সুযোগ বহন করে।
তাকে শুধু ‘অপরাধী’ হিসেবে দেখলে সে সমাজ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হবে। বরং তাকে বুঝতে হবে, ভুল থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তার সামনে বিকল্প ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে।
একজন কিশোরের হাতে বই থাকলে সে জ্ঞান অর্জন করবে। হাতে ক্রিকেট ব্যাট থাকলে সে খেলোয়াড় হতে পারে। হাতে ক্যামেরা থাকলে সে সাংবাদিক হতে পারে। হাতে কম্পিউটার থাকলে সে প্রযুক্তিবিদ হতে পারে।
কিন্তু একই হাত যদি অপরাধের অস্ত্র হয়ে ওঠে, তাহলে ক্ষতি শুধু তার নয়—আমাদের সবার।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই আসলে কিশোরদের বিরুদ্ধে লড়াই নয়। এটি অপরাধ, মাদক, সহিংসতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সামাজিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে লড়াই।
আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—কেন একজন কিশোর ভয় দেখিয়ে নিজেকে শক্তিশালী মনে করছে? কেন সে মনে করছে আইন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না? কে তাকে সেই সাহস দিচ্ছে? কেন তার পরিবার তাকে ধরে রাখতে পারছে না? কেন সমাজ তাকে ইতিবাচক নেতৃত্বের জায়গা দিতে পারছে না?
আর যদি সত্যিই কোনো এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক শক্তি কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ, আশ্রয় বা পৃষ্ঠপোষকতা দেয়—তাহলে সেই সম্পর্কের তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ থাকলে তা উপেক্ষা করাও সমাজের জন্য বিপজ্জনক।
আমার গ্রামের ঈদের সেই অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি পরিবারের পাশের বাড়ির কয়েকজন কিশোরের গল্প নয়। এটি আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন রেখে যায়—
আমরা কি আমাদের কিশোরদের ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য তৈরি করছি, নাকি আজকের ক্ষমতার খেলায় তাদের ব্যবহার করে আগামী দিনের অপরাধী তৈরি করছি?
আজকের কিশোরই আগামী দিনের নাগরিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রশাসক ও নেতা।
তাই কিশোরের হাতে ক্ষমতার ভয় নয়, ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে দেওয়াই হোক আমাদের দায়িত্ব।
মো. বোরহান উদ্দিন
উদ্যোক্তা, সমাজ-গণমাধ্যম কর্মী ও কলাম লেখক




















