বাথরুমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে, কী করবেন
- আপডেট সময় ০৫:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ০ বার পড়া হয়েছে
স্ট্রোকের অন্যতম কারণ মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তনালির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। আবার রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়েও স্ট্রোক হতে পারে।
রক্তচাপের হঠাৎ ও অতিরিক্ত তারতম্য হলে রক্তনালির ওপর চাপ তৈরি হয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বাথরুমে থাকা অবস্থায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখানেও স্ট্রোক হতে পারে।
বিশেষ করে ঘুম থেকে উঠে হুট করে বাথরুমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার কারণে রক্তচাপের তারতম্য হতে পারে।
তবে এসব পরিস্থিতি সবার ক্ষেত্রে স্ট্রোকের কারণ নয়; যাদের আগে থেকেই স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে
অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। আবার বাথরুমে দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর দ্রুত উঠে দাঁড়ালেও রক্তচাপের তারতম্য হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে প্রস্রাব বা পায়খানার সময় অতিরিক্ত চাপ দিলেও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই দ্রুত বাথরুমে যাওয়ার ক্ষেত্রেও রক্তচাপের পরিবর্তন হতে পারে।
এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের আধিক্য, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বাথরুমে কীভাবে সতর্ক থাকবেন
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল না করাই ভালো। পানি ঠান্ডা হলে প্রথমে পা ও শরীরের নিচের অংশ ভেজাতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের ওপরের অংশ ও মাথায় পানি দিতে হবে।
বাথরুমে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসা এড়িয়ে চলতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত বাথরুমে না গিয়ে কিছুক্ষণ ধীরে বসে থাকা এবং এরপর আস্তে করে দাঁড়িয়ে হাঁটা ভালো। এতে হঠাৎ রক্তচাপের পরিবর্তনের ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়।
স্ট্রোক একটি গুরুতর রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি বেঁচে গেলেও স্থায়ীভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে পারেন। তাই ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাথরুম ব্যবহারের সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি।


















