০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের মধ্যেই ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারালেন আরেক ফিলিস্তিনি ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

আজ মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিতে আহত ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব ফুটবল দলের এক কিশোর খেলোয়াড় মারা গেছেন।

সরকারি কর্মকর্তা ও তার স্বজনরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ১৭ বছর বয়সী ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান গত ১১ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন এবং শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যু পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সৈন্যদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার দিকে নতুন করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল এই ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বসতি নির্মাণ কার্যক্রম দ্রুত গতিতে বাড়িয়ে চলেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বর্ণবাদী ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আল-নাসান স্থানীয় আল-মুগায়্যির ক্লাবের হয়ে খেলতেন এবং ফিলিস্তিন জাতীয় যুব দলের সদস্য ছিলেন।

শনিবার রামাল্লার ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রাম আল-মুগায়্যিরে নিয়ে যাওয়ার সময় কালো পোশাক পরিহিত কয়েক ডজন শোকাতুর মানুষ মিছিলে অংশ নেন।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামে হামলা চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনী আল-নাসানের উরুতে গুলি করে। পরবর্তীতে তার পা কেটে ফেলতে হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত আঘাতের কারণে তিনি মারা যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ফাদির চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০১৩ জনে, যার মধ্যে ফিলিস্তিনি ফুটবল পরিবারেরই রয়েছেন ৫৬৮ জন।’

তার বাবা হামদাল্লাহ আল-নাসান বলেন, হামলার সময় নারী ও মেয়েদের চিৎকার শুনে তার ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে দৌড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে হামলার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিল এবং তাকে হত্যা করা হলো।’

‘সে একজন মেধাবী ছাত্র ছিল, খেলাধুলায় খুব ভালো ছিল এবং ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। সবাই তাকে খুব পছন্দ করত,’ বলেন তার মা হানান আল-নাসান।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, পৃথক ঘটনায় শনিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও বাহিনী। এতে রামাল্লার কাছে জলপাই গাছ এবং নাবলুসের কাছে একটি পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী জেনিনের কাছাকাছি শহরগুলোতেও তল্লাশি চালায়, যা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রায় নিত্যদিনের হামলা ও অনুপ্রবেশের অংশ।

ওয়াফা জানিয়েছে, রামাল্লার পশ্চিমে দেইর কাদ্দিসে নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। এর ফলে জলপাই বাগানে আগুন লেগে যায়।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়, যার ফলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

নাবলুসের কাছে তাল শহরে এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে বসতি স্থাপনকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে ঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় বলে ওয়াফা জানিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জেনিনের কাছে ইয়াবাদ ও মিথলোন এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। বাসিন্দাদের বর্ণনামতে, এই ধরণের হামলা ও অনুপ্রবেশ এখন প্রায় প্রাত্যহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের মধ্যেই ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারালেন আরেক ফিলিস্তিনি ফুটবলার

আপডেট সময় ০৫:১৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আজ মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিতে আহত ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব ফুটবল দলের এক কিশোর খেলোয়াড় মারা গেছেন।

সরকারি কর্মকর্তা ও তার স্বজনরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ১৭ বছর বয়সী ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান গত ১১ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন এবং শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যু পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সৈন্যদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার দিকে নতুন করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল এই ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বসতি নির্মাণ কার্যক্রম দ্রুত গতিতে বাড়িয়ে চলেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বর্ণবাদী ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আল-নাসান স্থানীয় আল-মুগায়্যির ক্লাবের হয়ে খেলতেন এবং ফিলিস্তিন জাতীয় যুব দলের সদস্য ছিলেন।

শনিবার রামাল্লার ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রাম আল-মুগায়্যিরে নিয়ে যাওয়ার সময় কালো পোশাক পরিহিত কয়েক ডজন শোকাতুর মানুষ মিছিলে অংশ নেন।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামে হামলা চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনী আল-নাসানের উরুতে গুলি করে। পরবর্তীতে তার পা কেটে ফেলতে হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত আঘাতের কারণে তিনি মারা যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ফাদির চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া আন্দোলনের শহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০১৩ জনে, যার মধ্যে ফিলিস্তিনি ফুটবল পরিবারেরই রয়েছেন ৫৬৮ জন।’

তার বাবা হামদাল্লাহ আল-নাসান বলেন, হামলার সময় নারী ও মেয়েদের চিৎকার শুনে তার ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে দৌড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে হামলার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিল এবং তাকে হত্যা করা হলো।’

‘সে একজন মেধাবী ছাত্র ছিল, খেলাধুলায় খুব ভালো ছিল এবং ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। সবাই তাকে খুব পছন্দ করত,’ বলেন তার মা হানান আল-নাসান।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, পৃথক ঘটনায় শনিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও বাহিনী। এতে রামাল্লার কাছে জলপাই গাছ এবং নাবলুসের কাছে একটি পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী জেনিনের কাছাকাছি শহরগুলোতেও তল্লাশি চালায়, যা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রায় নিত্যদিনের হামলা ও অনুপ্রবেশের অংশ।

ওয়াফা জানিয়েছে, রামাল্লার পশ্চিমে দেইর কাদ্দিসে নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। এর ফলে জলপাই বাগানে আগুন লেগে যায়।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়, যার ফলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

নাবলুসের কাছে তাল শহরে এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে বসতি স্থাপনকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে ঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় বলে ওয়াফা জানিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জেনিনের কাছে ইয়াবাদ ও মিথলোন এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। বাসিন্দাদের বর্ণনামতে, এই ধরণের হামলা ও অনুপ্রবেশ এখন প্রায় প্রাত্যহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।