০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পুলিশের আচরণে ক্ষোভ নাঈমের বাবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় ০৬:০০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা মাহবুবুল আলম। তিনি বলেছেন, পুলিশ নিজেদের জনগণের বন্ধু দাবি করলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণ সেই পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একইসঙ্গে নাঈমের বড় ভাইও অভিযোগ করেছেন, তার ভাইকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গলা চেপে ধরা হয়েছে এবং পরে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নাঈমের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা মামলা করেছি। নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছি।

যিনি ডিউটিতে ছিলেন এবং যাকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করছি।
এখন পুলিশ কী করে এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার বিষয়।
মাহবুবুল আলমের ভাষ্য, ঘটনার শুরুতে নাঈম তাকে ফোন করে জানিয়েছিল পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং তার সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। পরে ফোনে আর যোগাযোগ করা যায়নি। নাঈমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে থানায় গিয়ে ছেলের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, নাঈম পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। বরং তাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলে দুই পুলিশ সদস্য ও এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় গিয়ে নিজেও প্রত্যাশিত আচরণ পাননি বলে দাবি করেন মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, আমি সাবেক কাউন্সিলর ও নাঈমের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে বাইরে বসতে বলা হয়েছে। আমি যদি এমন আচরণের শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয় সেটি সহজেই বুঝা যায়।

এদিকে নাঈম হাসানের বড় ভাই মো. সাব্বির সাংবাদিকদের বলেন, তিনি থানায় গিয়ে নাঈমের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে পুলিশ তল্লাশির কথা বলে নাঈমকে থামায়। নাঈম তল্লাশিতে আপত্তি না করলেও এক পর্যায়ে এক এসআই তার গলা চেপে ধরে গাড়ির ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে যে কেউ ভয় পেত। নাঈমও ভয় পেয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে বাইরে চলে আসে। এরপর তাকে কলার ধরে পুলিশের গাড়ির কাছে নেওয়া হয়। গাড়িতে উঠতে না চাইলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসআই মারধর করেছেন, সঙ্গে থাকা কনস্টেবলও মারধর করেছেন। পরে পাঞ্জাবি পরা আরেক ব্যক্তি এসে ফাইবার স্টিক দিয়ে মারতে শুরু করেন।

নাঈমের ভাইয়ের দাবি, ওই ব্যক্তি নিজেকে ডিবির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাকে আড়ালে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। নাঈম বারবার বলছিল তার ব্যাগ তল্লাশি করতে। ব্যাগে কী আছে তা দেখতে। কিন্তু সেটি না করে তাকে অপমান করা হয়েছে, গালাগালি করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে।

মারধরের ফলে নাঈমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তার ভাই। তিনি জানান, কোমর, পা এবং শরীরের আরও কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

নাঈমের ভাই বলেন, ও আমাকে দেখে কান্না করে দেয়। বলেছে, তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। গলা চেপে ধরা হয়েছিল। আরেকটু হলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যেত। পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগও করতে দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নগরের লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে আটক করে মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশের আচরণে ক্ষোভ নাঈমের বাবার

আপডেট সময় ০৬:০০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা মাহবুবুল আলম। তিনি বলেছেন, পুলিশ নিজেদের জনগণের বন্ধু দাবি করলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণ সেই পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একইসঙ্গে নাঈমের বড় ভাইও অভিযোগ করেছেন, তার ভাইকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গলা চেপে ধরা হয়েছে এবং পরে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নাঈমের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা মামলা করেছি। নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছি।

যিনি ডিউটিতে ছিলেন এবং যাকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করছি।
এখন পুলিশ কী করে এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার বিষয়।
মাহবুবুল আলমের ভাষ্য, ঘটনার শুরুতে নাঈম তাকে ফোন করে জানিয়েছিল পুলিশ তাকে আটক করেছে এবং তার সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। পরে ফোনে আর যোগাযোগ করা যায়নি। নাঈমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে থানায় গিয়ে ছেলের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, নাঈম পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। বরং তাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলে দুই পুলিশ সদস্য ও এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় গিয়ে নিজেও প্রত্যাশিত আচরণ পাননি বলে দাবি করেন মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, আমি সাবেক কাউন্সিলর ও নাঈমের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে বাইরে বসতে বলা হয়েছে। আমি যদি এমন আচরণের শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয় সেটি সহজেই বুঝা যায়।

এদিকে নাঈম হাসানের বড় ভাই মো. সাব্বির সাংবাদিকদের বলেন, তিনি থানায় গিয়ে নাঈমের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে পুলিশ তল্লাশির কথা বলে নাঈমকে থামায়। নাঈম তল্লাশিতে আপত্তি না করলেও এক পর্যায়ে এক এসআই তার গলা চেপে ধরে গাড়ির ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে যে কেউ ভয় পেত। নাঈমও ভয় পেয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে বাইরে চলে আসে। এরপর তাকে কলার ধরে পুলিশের গাড়ির কাছে নেওয়া হয়। গাড়িতে উঠতে না চাইলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসআই মারধর করেছেন, সঙ্গে থাকা কনস্টেবলও মারধর করেছেন। পরে পাঞ্জাবি পরা আরেক ব্যক্তি এসে ফাইবার স্টিক দিয়ে মারতে শুরু করেন।

নাঈমের ভাইয়ের দাবি, ওই ব্যক্তি নিজেকে ডিবির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাকে আড়ালে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। নাঈম বারবার বলছিল তার ব্যাগ তল্লাশি করতে। ব্যাগে কী আছে তা দেখতে। কিন্তু সেটি না করে তাকে অপমান করা হয়েছে, গালাগালি করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে।

মারধরের ফলে নাঈমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তার ভাই। তিনি জানান, কোমর, পা এবং শরীরের আরও কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

নাঈমের ভাই বলেন, ও আমাকে দেখে কান্না করে দেয়। বলেছে, তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। গলা চেপে ধরা হয়েছিল। আরেকটু হলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যেত। পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগও করতে দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নগরের লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে আটক করে মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।