মিরপুরে আর্জেন্টিনার ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের জার্সিতে গিনেস রেকর্ডের স্বপ্ন
- আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুরের ইব্রাহিমপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ সড়ক নেই; এটি যেন পরিণত হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকান ফুটবলের এক অঘোষিত গ্যালারিতে। রাস্তার একপাশে ঝুলছে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে বানানো ব্রাজিলের একটি জার্সি, আর তার ঠিক পাশেই সগর্বে উড়ছে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের এক বিশাল আর্জেন্টাইন জার্সি, যা আকারে প্রতিপক্ষের জার্সির প্রায় দ্বিগুণ!
মেসিদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তৈরি এই জার্সিটি নিছক কোনো কাপড়ের টুকরো নয়; এটি ঢাকার বুকে সমর্থকদের এক অবিশ্বাস্য কারিগরি সাফল্যের গল্প।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরে উদ্যোক্তাদের অন্যতম মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘মেসির শেষ বিশ্বকাপকে উৎসর্গ করেই আমাদের এই আয়োজন। প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের এই জার্সিটি বানাতে আমাদের এক মাসের পরিকল্পনা আর ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগেছে।
পুরো জার্সিটির ওজন প্রায় ৫০ কেজি। এর মধ্যে কাপড়ের ওজন ২০ কেজি আর ভেতরে দেওয়া লোহার হ্যাঙ্গারের ওজন ৩০ কেজি। এই কাপড় দিয়ে অনায়াসে ১৫০টি সাধারণ জার্সি বানানো যেত।’ ঢাকার আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাসের তোড় থেকে শূন্যে ঝুলন্ত এই বিশাল কাপড়কে রক্ষা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে জার্সিটির ভেতরে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশেষ লোহার হ্যাঙ্গার। সব মিলিয়ে ৫০ কেজির এই বিশাল কাঠামোটিকে দুটো ভবনের মাঝখানে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, ৩ ফুট বহরের কাপড় জোড়া দিয়ে এত বিশাল ক্যানভাস তৈরির কাজটি এতটাই নিখুঁতভাবে করা হয়েছে যে, খালি চোখে এর কোনো সেলাইয়ের দাগ বোঝার উপায় নেই।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করতে নারাজ উদ্যোক্তারা; তাদের মতে, এটি পুরোটাই ‘প্রাইসলেস’ বা অমূল্য এক ভালোবাসার নিদর্শন। টুর্নামেন্ট শেষে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্যান-মেড জার্সি হিসেবে নাম ওঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এ বিষয়ে মাসুম বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমরা গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরিকল্পনা করছি। আর খরচের কথা যদি বলেন, এটি সম্পূর্ণ আমাদের ভালোবাসা থেকে তৈরি। তাই এর কোনো আর্থিক মূল্য আমরা নির্ধারণ করতে চাই না; এটি আমাদের কাছে একেবারেই প্রাইসলেস।’
মাঠের অভাব আর ইট-পাথরের এই শহরে ফুটবল উন্মাদনার এই রূপ দেখে মুগ্ধ সবাই। প্রতিপক্ষ হলেও ব্রাজিলের সমর্থকরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে নিজেদের জার্সিটি ছোট হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপও ঝরেছে তাদের কণ্ঠে। স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থক আরাফাত হোসেন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জার্সিটি ২০১৮ সালের, তাই ওদেরটার তুলনায় ছোট। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় এত বড় জার্সি টানানোর জন্য যে স্পেস বা জায়গা দরকার, তা পাওয়া খুব কঠিন। তবে সুযোগ আর ফান্ডিং পেলে ভবিষ্যতে আমরাও এর চেয়ে বড় কিছু করার চেষ্টা করব।’
আরেক খুদে ব্রাজিল ভক্ত, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আমিনের কণ্ঠেও প্রিয় দলের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিটা অনেক সুন্দর হয়েছে, তবে আমাদের জার্সিটা একটু ছোট হয়ে গেছে। বড় হলে আরও ভালো লাগতো। তবে আমরা বিশ্বকাপ জিতে আনন্দ করতে চাই। এবার বিশ্বকাপটা নেইমারের হাতেই দেখতে চাই।’
ফুটবলকে ঘিরে এই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে যেমন রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তেমনি রয়েছে একে অপরের প্রতি সম্মান।



















