বামপন্থীদের পছন্দ মেসি, রক্ষণশীলদের রোনালদো
- আপডেট সময় ০৪:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
মেসি না রোনালদো, ফুটবলপ্রেমীদের এই চিরন্তন বিতর্কের শেষ নেই। কে সেরা, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে প্রায় দুই দশক ধরে।
তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, এই পছন্দ শুধু ফুটবলীয় রুচির বিষয় নয়। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি আপনার ঝোঁক অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উদারপন্থী মানুষেরা তুলনামূলক বেশি পছন্দ করেন মেসিকে, আর রক্ষণশীলদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় রোনালদো। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা নতুন করে আলোচনায় এনেছে বিষয়টি।
গত সপ্তাহে গবেষণাটির প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের ২৬টি দেশের ১০ হাজার ৬৬১ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তার প্রিয় ফুটবলারের সম্পর্ক থাকতে পারে।
গবেষণার ফল বলছে, যারা নিজেদের উদারপন্থী বা লিবারেল হিসেবে দেখেন, তাদের বড় একটি অংশ মেসির প্রতি বেশি অনুরাগী। অন্যদিকে রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ মতাদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে রোনালদোর জনপ্রিয়তা তুলনামূলক বেশি।
গবেষকদের মতে, এর পেছনে দুই তারকার জনসমক্ষে তৈরি হওয়া ভিন্নধর্মী ব্যক্তিত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেসিকে সাধারণত শান্ত, সংযত এবং দলকেন্দ্রিক একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয়। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়ার ভাবমূর্তিই তার পরিচয়ের বড় অংশ।
অন্যদিকে রোনালদো নিজেকে তুলে ধরেন আত্মবিশ্বাসী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রতিযোগিতাপ্রবণ একজন মানুষ হিসেবে। নিজের সাফল্য নিয়ে গর্ব করতে তিনি কখনো সংকোচ বোধ করেন না। গবেষকদের ভাষায়, মানুষ প্রায়ই এমন ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়, যাদের জীবনদর্শন তাদের নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে মিলে যায়।
দেশভেদেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ফ্রান্স ও চীনের মতো কয়েকটি দেশে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মেসি। আবার জার্মানি ও জাপানের মতো কয়েকটি দেশে দুই তারকার জনপ্রিয়তার পার্থক্য খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় মেসির প্রতি সমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
গবেষণাটি আরও একটি মজার তথ্য সামনে এনেছে। তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ফুটবলার পছন্দের সম্পর্কটি বেশি স্পষ্ট। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাব কমে আসে। এ ছাড়া যাঁদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানবোধ বেশি, তাঁদের মধ্যে রোনালদোর প্রতি ঝোঁক তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
গবেষণা দলটি এই মনস্তত্ত্বের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছে, ‘মানুষ মুখে নম্রতা বা বিনয়কে মহৎ গুণ হিসেবে প্রশংসা করলেও, বাস্তবে তারা যে সব সময় বিনয়ী মানুষের প্রতিই আকৃষ্ট হবে, এমন কোনো কথা নেই। মূলত উচ্চ আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষেরা সেই সব ব্যক্তিত্বের প্রতিই বেশি মুগ্ধ হন, যারা কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। এ ধরনের ভক্তদের মধ্যে অনেক সময় প্রিয় তারকার সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে দেখার প্রবণতাও কাজ করে।’
দিনশেষে ফুটবল মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে মেসি ও রোনালদো যেন হয়ে উঠেছেন দুটি ভিন্ন ব্যক্তিত্বের প্রতীক। একজনের পরিচয় নীরবতা, সংযম ও দলগত সাফল্যে। অন্যজনের পরিচয় আত্মবিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নিরন্তর চেষ্টায়।
হয়তো সে কারণেই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও দুই মহাতারকাকে ঘিরে বিতর্কের আগুন নিভে যায়নি। মেসি-রোনালদো আলোচনা আর শুধু ফুটবলীয় পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই!



















