০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইতিহাস গড়ে গিনেস বুকে রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল পর্তুগাল। ম্যাচটিতে গোলের দেখা পাননি দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

এতে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডরা যখন একের পর এক গোল করে নিজেদের জানান দিচ্ছেন, তখন ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি পারবেন পর্তুগালের আক্রমণভাগের ভার সামলাতে? সব সমালোচনার জবাব মাঠেই দিলেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।

বিশ্বকাপের নবাগত দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুধু দলকেই জেতালেন না, পা রাখলেন ইতিহাসের এমন এক চূড়ায়, যেখানে আজ পর্যন্ত কোনো ফুটবলার পৌঁছাতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে আজ জয়ের খোঁজে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৪৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পর্তুগিজরা। সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে রোনালদো সময় নিলেন মাত্র ৬ মিনিট।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্রুনো ফার্নান্দেজের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে উজবেকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সিআরসেভেন।

ম্যাচের প্রথম গোলটি করার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য ও অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড গড়ে ফেলেন রোনালদো। তার এই মহাকীর্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিখ্যাত ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’। এর আগে গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ে মেসি ভেঙে চুরমার করেছেন ফুটবল ইতিহাসের ৪টি বড় রেকর্ড, যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে রোনালদোর মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১০-এ। এর মাধ্যমে তিনি পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ইউসেবিও’র ৯ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন (অবশ্য ইউসেবিও মাত্র একটি বিশ্বকাপ খেলেই ৯টি গোল করেছিলেন)। ম্যাচ শুরুর আগে যারা রোনালদোর বয়স ও ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, মাঠের এমন পারফরম্যান্সের পর সিআরসেভেনের ভক্তদের উল্লাস ছিল দেখার মতো।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের একটি ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়াতে গিয়ে উজবেক গোলরক্ষকের সাথে ধাক্কা লাগায় সে যাত্রা গোল হয়নি। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমেও হ্যাটট্রিক করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি; তবে তার শটটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

রোনালদোর জোড়া গোলের ওপর ভর করে পর্তুগাল ম্যাচটি ৫-০ ব্যবধানে জিতে নেয়। এই বড় জয়ের ফলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পর্তুগাল এখন গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। আগামী উইকএন্ডে মিয়ামিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে রোনালদোর দল।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতিহাস গড়ে গিনেস বুকে রোনালদো

আপডেট সময় ০৪:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল পর্তুগাল। ম্যাচটিতে গোলের দেখা পাননি দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

এতে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডরা যখন একের পর এক গোল করে নিজেদের জানান দিচ্ছেন, তখন ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি পারবেন পর্তুগালের আক্রমণভাগের ভার সামলাতে? সব সমালোচনার জবাব মাঠেই দিলেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।

বিশ্বকাপের নবাগত দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুধু দলকেই জেতালেন না, পা রাখলেন ইতিহাসের এমন এক চূড়ায়, যেখানে আজ পর্যন্ত কোনো ফুটবলার পৌঁছাতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে আজ জয়ের খোঁজে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ৪৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পর্তুগিজরা। সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে রোনালদো সময় নিলেন মাত্র ৬ মিনিট।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্রুনো ফার্নান্দেজের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে উজবেকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সিআরসেভেন।

ম্যাচের প্রথম গোলটি করার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য ও অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড গড়ে ফেলেন রোনালদো। তার এই মহাকীর্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিখ্যাত ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’। এর আগে গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ে মেসি ভেঙে চুরমার করেছেন ফুটবল ইতিহাসের ৪টি বড় রেকর্ড, যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে রোনালদোর মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১০-এ। এর মাধ্যমে তিনি পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ইউসেবিও’র ৯ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন (অবশ্য ইউসেবিও মাত্র একটি বিশ্বকাপ খেলেই ৯টি গোল করেছিলেন)। ম্যাচ শুরুর আগে যারা রোনালদোর বয়স ও ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, মাঠের এমন পারফরম্যান্সের পর সিআরসেভেনের ভক্তদের উল্লাস ছিল দেখার মতো।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের একটি ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়াতে গিয়ে উজবেক গোলরক্ষকের সাথে ধাক্কা লাগায় সে যাত্রা গোল হয়নি। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমেও হ্যাটট্রিক করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি; তবে তার শটটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

রোনালদোর জোড়া গোলের ওপর ভর করে পর্তুগাল ম্যাচটি ৫-০ ব্যবধানে জিতে নেয়। এই বড় জয়ের ফলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পর্তুগাল এখন গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। আগামী উইকএন্ডে মিয়ামিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে রোনালদোর দল।