অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করবে: তথ্য উপদেষ্টা
- আপডেট সময় ০৫:০৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে সরকার কোনো বাধা দেবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ১২ হাজার কোটি টাকার সেবাখাতে দুর্নীতির হিসাব এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতির দায় শুধু রাজনৈতিক সরকারের নয়, রাষ্ট্রের স্থায়ী অংশ অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসন উভয় অংশই থাকে। সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা দীর্ঘদিনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি তারা করছেন না। তবে দুর্নীতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
আগামী বছরের টিআইবির প্রতিবেদনে দুর্নীতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেরা ওই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে, যা দূর করতে সরকার কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। তাই যেকোনো সময় অভিযোগের তদন্ত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ কিংবা বর্তমান সরকারের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে দুদকের উচিত স্বাধীনভাবে তদন্ত করা। সরকার এ ধরনের তদন্তে কোনো বাধা দেবে না বরং কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুদকের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার চায়, অতীত ও বর্তমান সব সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ সমানভাবে তদন্তের আওতায় আসুক।

















