০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭,১২৫ টাকা করার দাবি

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৪:২২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা করার দাবি জানিয়েছে পোশাকশিল্পের চারটি শ্রমিক জোট-গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ, গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এবং এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় গার্মেন্টস শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি তোলা হয়।

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের অন্যতম নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০২৯ মেয়াদের জন্য তিন বছরের একটি নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগের গ্রেড প্রথা পুনর্বিন্যাস করে চারটি গ্রেড নির্ধারণ, মূল মজুরির ওপর ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর শ্রমিকদের মূল মজুরি ৩৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। গ্রেড-২-এ মূল মজুরি ৩০ হাজার ও মোট মজুরি ৫১ হাজার টাকা।

গ্রেড-৩-এ মূল মজুরি ২৫ হাজার ও মোট মজুরি ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সর্বনিম্ন গ্রেড-৪-এ মূল মজুরি ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও রান্নার খরচসহ দৈনিক খাবারের ব্যয় প্রায় ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা।

শ্রমিক নেতারা বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকা জরুরি। চার সদস্যের পরিবারের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের ব্যয় আরও বেশি। এসব বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কোনোভাবেই ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলারের নিচে হওয়া উচিত নয়।

নাহিদুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমিন ও বাচ্চু মিয়াসহ অনেকে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭,১২৫ টাকা করার দাবি

আপডেট সময় ০৪:২২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা করার দাবি জানিয়েছে পোশাকশিল্পের চারটি শ্রমিক জোট-গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ, গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এবং এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় গার্মেন্টস শিল্প খাতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি তোলা হয়।

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের অন্যতম নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০২৯ মেয়াদের জন্য তিন বছরের একটি নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগের গ্রেড প্রথা পুনর্বিন্যাস করে চারটি গ্রেড নির্ধারণ, মূল মজুরির ওপর ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর শ্রমিকদের মূল মজুরি ৩৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। গ্রেড-২-এ মূল মজুরি ৩০ হাজার ও মোট মজুরি ৫১ হাজার টাকা।

গ্রেড-৩-এ মূল মজুরি ২৫ হাজার ও মোট মজুরি ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সর্বনিম্ন গ্রেড-৪-এ মূল মজুরি ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও রান্নার খরচসহ দৈনিক খাবারের ব্যয় প্রায় ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা।

শ্রমিক নেতারা বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকা জরুরি। চার সদস্যের পরিবারের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের ব্যয় আরও বেশি। এসব বিবেচনায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কোনোভাবেই ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলারের নিচে হওয়া উচিত নয়।

নাহিদুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমিন ও বাচ্চু মিয়াসহ অনেকে।