০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আস্থা পেতে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি : ডাচ মন্ত্রী

ফারজানা বিনতে হোসাইন - স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমা।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে মুনাফার চেয়েও গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ।

এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের আস্থা তৈরি হয়।

সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে এসব কথা বলেন শুর্দ শুর্দসমার। এ সময় তিনি ইউরোপের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধের বিষয়েও বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

এই উত্তরণকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও শ্রমমান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইইউর নতুন বিধি অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপের বাজারে নিষিদ্ধ হতে পারে। ২০২৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে এ বিধি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ঢাকা সফরে শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে শ্রম অধিকারের মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ইইউর একমাত্র লক্ষ্য নয়। বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর উৎপাদক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ইউরোপীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, সে জন্যও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ডাচ মন্ত্রীর মতে, এ ধরনের সহযোগিতায় তিন পক্ষই লাভবান হবে।

এতে শ্রমিকদের অধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কারখানাগুলো সন্তুষ্ট কর্মী পাবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুর্দ শুর্দসমার। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হলে স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে বলে আস্থা পান।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেদারল্যান্ডসের এই মন্ত্রী। তার মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আস্থা পেতে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি : ডাচ মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে স্থিতিশীল গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে মুনাফার চেয়েও গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ।

এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের আস্থা তৈরি হয়।

সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে এসব কথা বলেন শুর্দ শুর্দসমার। এ সময় তিনি ইউরোপের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধের বিষয়েও বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

এই উত্তরণকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও শ্রমমান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইইউর নতুন বিধি অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপের বাজারে নিষিদ্ধ হতে পারে। ২০২৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে এ বিধি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ঢাকা সফরে শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে শ্রম অধিকারের মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ইইউর একমাত্র লক্ষ্য নয়। বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর উৎপাদক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ইউরোপীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, সে জন্যও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ডাচ মন্ত্রীর মতে, এ ধরনের সহযোগিতায় তিন পক্ষই লাভবান হবে।

এতে শ্রমিকদের অধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কারখানাগুলো সন্তুষ্ট কর্মী পাবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুর্দ শুর্দসমার। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হলে স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে বলে আস্থা পান।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেদারল্যান্ডসের এই মন্ত্রী। তার মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে।