০৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মো: বোরহান উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ০ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন

ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী।

ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসেন।

এসময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা ও জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

মাদক পরিস্থিতি নিয়ে আগের উদ্যোগ
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীৃদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদক সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান।

পুলিশের সহায়তায় অভিযান, আটক ছয়
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, বেশকিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য প্রচারের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। এতে তার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিবৃতিতে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ এমন খণ্ডিত দৃশ্যকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থি। সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ গড়ার অঙ্গীকার
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের কাছে তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আপডেট সময় ০৫:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তার দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী।

ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসেন।

এসময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা ও জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল।

মাদক পরিস্থিতি নিয়ে আগের উদ্যোগ
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীৃদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদক সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান।

পুলিশের সহায়তায় অভিযান, আটক ছয়
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, বেশকিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য প্রচারের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। এতে তার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিবৃতিতে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ এমন খণ্ডিত দৃশ্যকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থি। সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ গড়ার অঙ্গীকার
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের কাছে তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।