০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইরান, জেনে নিন সমীকরণ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইডে গোল বাতিল না হলে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউটে সরাসরি পা রাখত ইরান।

কিন্তু ১-১ ড্রয়ের পর ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট এবং শূন্য (০) গোল ব্যবধান নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এশিয়ান পরাশক্তিদের।

তবে এখনই তাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়নি। নতুন ফরম্যাটের নিয়মে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ ২৪ দলের সাথে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও যাবে শেষ ৩২-এ।

ইতিমধ্যে শেষ হওয়া ৯টি গ্রুপের তৃতীয় দলগুলোর মধ্যে ইরান বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বাকি থাকা ৩টি গ্রুপ (জে, কে এবং এল) থেকে সর্বোচ্চ দুটি দল ইরানকে টপকে গেলেও তারা নকআউটে চলে যাবে।

ইরান কেবল তখনই বিদায় নেবে, যদি এই তিনটি গ্রুপের সমীকরণই তাদের বিপক্ষে যায়।
নিচে দেওয়া ৩টি সম্ভাব্য সিনারিও বা দৃশ্যের মধ্যে যেকোনো একটি ঘটলেই ইরান শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে:

১. গ্রুপ ‘জে’ (অস্ট্রিয়া বনাম আলজেরিয়া)

বর্তমানে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া উভয়েরই পয়েন্ট ৩। আগামীকাল তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে যদি কোনো দল জেতে, তবেই ইরান নকআউটে চলে যাবে। কারণ, পরাজিত দল ৩ পয়েন্টেই থমকে থাকবে এবং তাদের গোল ব্যবধান মাইনাসে চলে যাবে (বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ০ এবং আলজেরিয়ার -২)। ফলে তারা ইরানের (০ গোল ব্যবধান) নিচে থাকবে। কেবল ম্যাচটি ড্র হলে উভয় দল ৪ পয়েন্ট পেয়ে ইরানকে টপকে যাবে।

২. গ্রুপ ‘কে’ (কঙ্গো বনাম উজবেকিস্তান)

এই গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো আগামীকাল ভোরে মুখোমুখি হবে পয়েন্টহীন উজবেকিস্তানের। কঙ্গো যদি ম্যাচটি জিতে যায়, তবে তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইরানকে পেছনে ফেলবে। কিন্তু ম্যাচটি ড্র হলে কঙ্গোর পয়েন্ট হবে ২, যা ইরানের চেয়ে কম। আবার উজবেকিস্তান জিতলেও ইরানের সুবিধা; কারণ উজবেকিস্তানের গোল ব্যবধান বর্তমানে মাইনাস ৭ (-৭)। ইরানকে টপকাতে হলে উজবেকদের আজ অন্তত ৭ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে, যা প্রায় অসম্ভব। ফলে কঙ্গো আজ জয় না পেলেই ইরানের কপাল খুলবে।

৩. গ্রুপ ‘এল’ (ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা)

৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তিনে থাকা ক্রোয়েশিয়ার গোল ব্যবধান মাইনাস ১ (-১)। আজ রাতে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া জিতলে বা ড্র করলে তারা ৪ বা ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইরানকে টপকে যাবে। কিন্তু ঘানা যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দেয়, তবে ক্রোয়াটদের পয়েন্ট ৩-ই থাকবে এবং গোল ব্যবধান আরও কমবে। ফলে তারা ইরানের পেছনে পড়ে যাবে এবং ইরান পরের রাউন্ডে উঠবে। অন্য ম্যাচে পানামা যদি ইংল্যান্ডকে হারিয়েও দেয়, মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় ক্রোয়েশিয়াই তিনে থাকবে এবং ইরানের নিচে থাকবে।
ইরান বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাবে কেবল তখনই, যদি এই তিনটি প্রতিকূল ঘটনা একসঙ্গে ঘটে: অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচ ড্র হয়, ক্রোয়েশিয়া ঘানার কাছে না হারে এবং কঙ্গো উজবেকিস্তানকে হারিয়ে দেয়।

সংক্ষেপে, ইরানের জন্য অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন নেই। আজ অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার যেকোনো একজনের জয়, কঙ্গোর পয়েন্ট হারানো কিংবা ঘানার জয়; এই তিনটির মধ্যে যেকোনো একটি ঘটলেই শেষ ৩২-এর টিকিট পেয়ে যাবে ইরান।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইরান, জেনে নিন সমীকরণ

আপডেট সময় ০১:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইডে গোল বাতিল না হলে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউটে সরাসরি পা রাখত ইরান।

কিন্তু ১-১ ড্রয়ের পর ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট এবং শূন্য (০) গোল ব্যবধান নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এশিয়ান পরাশক্তিদের।

তবে এখনই তাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়নি। নতুন ফরম্যাটের নিয়মে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ ২৪ দলের সাথে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও যাবে শেষ ৩২-এ।

ইতিমধ্যে শেষ হওয়া ৯টি গ্রুপের তৃতীয় দলগুলোর মধ্যে ইরান বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বাকি থাকা ৩টি গ্রুপ (জে, কে এবং এল) থেকে সর্বোচ্চ দুটি দল ইরানকে টপকে গেলেও তারা নকআউটে চলে যাবে।

ইরান কেবল তখনই বিদায় নেবে, যদি এই তিনটি গ্রুপের সমীকরণই তাদের বিপক্ষে যায়।
নিচে দেওয়া ৩টি সম্ভাব্য সিনারিও বা দৃশ্যের মধ্যে যেকোনো একটি ঘটলেই ইরান শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে:

১. গ্রুপ ‘জে’ (অস্ট্রিয়া বনাম আলজেরিয়া)

বর্তমানে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া উভয়েরই পয়েন্ট ৩। আগামীকাল তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে যদি কোনো দল জেতে, তবেই ইরান নকআউটে চলে যাবে। কারণ, পরাজিত দল ৩ পয়েন্টেই থমকে থাকবে এবং তাদের গোল ব্যবধান মাইনাসে চলে যাবে (বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ০ এবং আলজেরিয়ার -২)। ফলে তারা ইরানের (০ গোল ব্যবধান) নিচে থাকবে। কেবল ম্যাচটি ড্র হলে উভয় দল ৪ পয়েন্ট পেয়ে ইরানকে টপকে যাবে।

২. গ্রুপ ‘কে’ (কঙ্গো বনাম উজবেকিস্তান)

এই গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো আগামীকাল ভোরে মুখোমুখি হবে পয়েন্টহীন উজবেকিস্তানের। কঙ্গো যদি ম্যাচটি জিতে যায়, তবে তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইরানকে পেছনে ফেলবে। কিন্তু ম্যাচটি ড্র হলে কঙ্গোর পয়েন্ট হবে ২, যা ইরানের চেয়ে কম। আবার উজবেকিস্তান জিতলেও ইরানের সুবিধা; কারণ উজবেকিস্তানের গোল ব্যবধান বর্তমানে মাইনাস ৭ (-৭)। ইরানকে টপকাতে হলে উজবেকদের আজ অন্তত ৭ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে, যা প্রায় অসম্ভব। ফলে কঙ্গো আজ জয় না পেলেই ইরানের কপাল খুলবে।

৩. গ্রুপ ‘এল’ (ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা)

৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তিনে থাকা ক্রোয়েশিয়ার গোল ব্যবধান মাইনাস ১ (-১)। আজ রাতে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া জিতলে বা ড্র করলে তারা ৪ বা ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইরানকে টপকে যাবে। কিন্তু ঘানা যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দেয়, তবে ক্রোয়াটদের পয়েন্ট ৩-ই থাকবে এবং গোল ব্যবধান আরও কমবে। ফলে তারা ইরানের পেছনে পড়ে যাবে এবং ইরান পরের রাউন্ডে উঠবে। অন্য ম্যাচে পানামা যদি ইংল্যান্ডকে হারিয়েও দেয়, মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় ক্রোয়েশিয়াই তিনে থাকবে এবং ইরানের নিচে থাকবে।
ইরান বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাবে কেবল তখনই, যদি এই তিনটি প্রতিকূল ঘটনা একসঙ্গে ঘটে: অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচ ড্র হয়, ক্রোয়েশিয়া ঘানার কাছে না হারে এবং কঙ্গো উজবেকিস্তানকে হারিয়ে দেয়।

সংক্ষেপে, ইরানের জন্য অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন নেই। আজ অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার যেকোনো একজনের জয়, কঙ্গোর পয়েন্ট হারানো কিংবা ঘানার জয়; এই তিনটির মধ্যে যেকোনো একটি ঘটলেই শেষ ৩২-এর টিকিট পেয়ে যাবে ইরান।