০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরিফ-বাবর-গৌছসহ ৯ জন খালাস, একজনের মৃত্যুদণ্ড

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সুরঞ্জিত হত্যা চেষ্টা মামলায় আরিফ-বাবর-গৌছসহ ৯ জন খালাস

সাবেক মন্ত্রী ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যা চেষ্টার মামলায় বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সুরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ২২ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, মামলার একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে নিমুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার আরও দুই আসামি-জেএমবি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ও বিপুল-অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিনসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেএমবি নেতা মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান (মফিজ/অভি), মুফতি মঈন উদ্দিন (আবু জান্দাল/মাসুম বিল্লাহ/খাজা), আব্দুল মাজেদ ভাট (ইউসুফ ভাট), নাজিউর রহমান নাজু (নাজমুল হক নাজু/নাজিমুল হক) প্রমুখ।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেন বিচারক। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গৌছ এবং লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

রায় ঘোষণার দিন সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গৌছসহ আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক নেতা নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। অভিযোগে বলা হয়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছিল।

ঘটনার তদন্ত শেষে বিভিন্ন সময়ে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গৌছসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরিফ-বাবর-গৌছসহ ৯ জন খালাস, একজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৫:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যা চেষ্টার মামলায় বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সুরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় ২২ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, মামলার একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে নিমুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার আরও দুই আসামি-জেএমবি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ও বিপুল-অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিনসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেএমবি নেতা মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান (মফিজ/অভি), মুফতি মঈন উদ্দিন (আবু জান্দাল/মাসুম বিল্লাহ/খাজা), আব্দুল মাজেদ ভাট (ইউসুফ ভাট), নাজিউর রহমান নাজু (নাজমুল হক নাজু/নাজিমুল হক) প্রমুখ।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেন বিচারক। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গৌছ এবং লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

রায় ঘোষণার দিন সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গৌছসহ আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক নেতা নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। অভিযোগে বলা হয়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছিল।

ঘটনার তদন্ত শেষে বিভিন্ন সময়ে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গৌছসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।