‘৩৪ বছরেও নেইমারের মধ্যে কিশোরের মতো ফুটবল প্রেম’
- আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / ৩ বার পড়া হয়েছে
চোটাক্রান্ত নেইমার জুনিয়রকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখায় কম সমালোচনা সইতে হয়নি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে যখন এই সান্তোস তারকা মাঠেই নামতে পারলেন না, তখন এই প্রশ্ন ও সমালোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
অবশেষে আজ ভোরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে ফিরলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ৭৬ মিনিটে মাথিউস কুনিয়ার পরিবর্তে তিনি মাঠে নামেন।
স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতেই নেইমার ছিলেন উজ্জ্বল; ২৪ বার বল স্পর্শ করেছেন, তিনটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন এবং একটি অন-টার্গেট শটও নিয়েছেন। তার এই পারফরম্যান্স কোচের জন্য বড় স্বস্তি হয়েই এসেছে বটে।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে তার খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল, সেজন্যই তাকে নামিয়েছি। সে খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার যে গুণাবলী, তাতে সে দলকে দারুণ সাহায্য করতে পারে। অল্প সময় খেললেও সে আজ বেশ ভালো করেছে।’
ডাগআউটে যখন ১০ নম্বর জার্সির সাইনবোর্ড উঠল, পুরো গ্যালারির দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালিতে নেইমারকে স্বাগত জানায়। ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে নামার মুহূর্তে আবেগে নেইমারের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। জাতীয় দলের হয়ে ফেরার এই ক্ষুধা তার মনে সবসময়ই ছিল, আর সেই মুহূর্তটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক পরম প্রশান্তি।
আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘নেইমারের খেলার জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণার দরকার হয় না; ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চড়ালে কোনো খেলোয়াড়েরই অনুপ্রেরণার অভাব হয় না। ৩৪ বছর বয়সেও নেইমারের মধ্যে একজন কিশোরের মতো ফুটবলের প্রতি একই রকম প্যাশন রয়েছে।’
এই মাইলফলক ছোঁয়ার পর নেইমার নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখেননি। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মনে রেখো তুমি কে’ (REMEMBER WHO YOU ARE), যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ফুটবলের এক সোনালী যুগের উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হলেও নেইমারের গত তিনটি বছরের পথচলা ছিল বেশ কঠিন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচে তার এসিএল ছিঁড়ে যায়। এরপর পায়ের কাফ পেশির চোট তার ফেরা আরও পিছিয়ে দেয়, যার ফলে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয়।
প্রথম দুই ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা হলেও নেইমার সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন সবচেয়ে সহজ উপায়ে। নিজের দেশের হয়ে আবারও বুট পরে সবুজ গালিচায় পা রেখেছেন তিনি।
সতীর্থ ব্রুনো গিমারেস ম্যাচ শেষে নেইমারকে একজন ‘তারকা, জিনিয়াস এবং সবার রোল মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘সে একজন বিশেষ মানুষ, শুধু একজন বড় খেলোয়াড়ই নন, একজন অসাধারণ মানুষও। সে মাঠে নামলে আমরা তাকে স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার সবটুকু চেষ্টা করি। আমার মনে হয় মাঠে ফিরতে পেরে সে আজ সত্যিই খুব খুশি।’



















