দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, চেইন অব কমান্ডে আপস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:৫৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় পরিবর্তন এসেছে।
তাই সাইবার ক্রাইম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে।
তিনি জানান, পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি নতুন পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে একটি হবে এলিট ফোর্সের জন্য ও অন্যটি সাধারণ সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য। পাশাপাশি এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আলাদা আইন প্রণয়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া জমি পাওয়া সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হবে।
অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কৌশলী হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।
পুলিশের সেবার মানোন্নয়নে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ সব ধরনের সেবা দ্রুত সময়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৩১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ –এই মূলমন্ত্র ধারণ করে প্রতিটি থানাকে সেবার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। আধুনিক পুলিশিং ডকট্রিন অনুযায়ী প্রিভেন্টিভ পুলিশিং বা অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার আলোকে পুলিশের আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।




















