‘হায় হোসেন’ মাতমে পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিল
- আপডেট সময় ০৫:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে
‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের হোসেনী দালান থেকে এ মিছিলটি যাত্রা শুরু করে।
শুক্রবার ভোর থেকেই হোসেনী দালানসহ বিভিন্ন ইমামবাড়ায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক ইমামবাড়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে।
কেউ নামাজ ও ইবাদতে সময় পার করেন, আবার কেউ কারবালার শোকগাঁথা স্মরণ করে মাতমে অংশ নেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কালো পোশাক পরিহিত, খালি পায়ে এবং মাথায় কালো ফিতা বেঁধে অংশগ্রহণকারীরা ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি ও মাতমের মধ্য দিয়ে মিছিলটি এগিয়ে নিচ্ছেন।
তাজিয়া মিছিলের অগ্রভাগে ছিল কালো ব্যানার, পাঞ্জা, বেহেশতি নিশান, প্রতীকী দুলদুল ঘোড়া, খুনি ঘোড়া এবং একটি তাজিয়া। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ গ্রহণ করে।
তাজিয়া মিছিল শুরুর আগে অনেক ভক্তকে প্রতীকী দুলদুল ঘোড়ার পায়ে দুধ ঢেলে সেই দুধ শরীরে ও মুখে মাখতে দেখা যায়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কারবালার শোকস্মৃতি এবং ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা এ আচার পালন করেন। শিশুদের শরীরেও দুধ মাখিয়ে মানত পূরণ করতে দেখা যায়।
হোসেনী দালান ইমামবাড়া মহররম মিছিল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ বাকার রেজা মাজলুম বলেন, “পৃথিবীতে অনেক ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কারবালার প্রান্তরের ঘটনা মুসলিম জাতি কখনো ভুলতে পারবে না। কারবালা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। একজন মুসলিম হিসেবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণ করাই আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “এবারের তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এজন্য আমরা পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
মিছিলটি হোসেনী দালান ইমামবাড়ার উত্তর গেট থেকে বের হয়ে হোসেনী দালান রোড, বকশীবাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা রোড, বকশীবাজার (কলপাড়) মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড, হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ চৌরাস্তা, গোর-এ-শহীদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা, ইডেন কলেজ, নীলক্ষেত, ঢাকা কলেজ, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়ক, বিজিবি ৪ নম্বর গেট ও সাত মসজিদ রোড হয়ে অস্থায়ী কারবালায় গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তাজিয়া মিছিল নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মিছিলের সামনে ও পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে আশুরা শুধু শোকের দিন নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার প্রতীক। মুসলিম বিশ্বের কাছে ১০ মহররম ত্যাগ, আত্মত্যাগ ও সত্যের পক্ষে অবস্থানের স্মারক। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে শাহাদত বরণ করেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়।


















