স্বাধীন ভোট হলে অলি আহমদের প্যারালাল প্রতিদ্বন্দ্বী আসত না
- আপডেট সময় ০৫:১৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তার প্যারালাল কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না।
সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ফরম নেওয়ার পর জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা… জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেত। তার প্যারালাল কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভোটদান থেকে বিরত থাকলেও জামায়াত বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিল।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যদি সংস্কার হতো কর্নেল (অব.) অলি সাহেব নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আজ নির্বাচিত হতেন।
এই সম্ভাবনাটা সমুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য। সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হবে, তারপরও জামায়াত জোট কী কারণে প্রার্থী দিল– এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এখানে জয়-পরাজয় বিষয় না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের ব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনার কথা বলা আছে। এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদা সম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। এবার হয়ত বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল না। আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেইবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম। সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, এবার সেই সম্ভাবনা না থাকলেও জামায়াত জোটের মনোনয়ন সংগ্রহ করার কারণ হচ্ছে বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা, জনগণের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করেনি। সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত। এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাদের ভোটাধিকার দিয়ে তার অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি। সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলনটা ঘটত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।















