১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল

মিজানুর রহমান খান - বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

নয়াদিল্লিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ বর্তমানে বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধ চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ভারত গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে। বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন।

ওই ব্যক্তি গ্রেফতার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কিনা এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

এর জবাবে মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তিনি আরও জানান, প্রত্যর্পণের যে কোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারতের অবস্থানে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে কার্যকর কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই তিনি ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়।

ভারতীয় প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

সূত্র:হিন্দুস্তান টাইমস

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল

আপডেট সময় ০৪:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নয়াদিল্লিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ বর্তমানে বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধ চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ভারত গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে। বাংলাদেশের করা আরেকটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছেন।

ওই ব্যক্তি গ্রেফতার হয়ে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কিনা এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

এর জবাবে মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তিনি আরও জানান, প্রত্যর্পণের যে কোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারতের অবস্থানে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে কার্যকর কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই তিনি ভারতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়।

ভারতীয় প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

সূত্র:হিন্দুস্তান টাইমস