০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

সিলেটের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মো: বোরহান উদ্দিন - নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি সিলেটের সড়ক পথ উন্নয়নের কথাও বলেছেন তিনি।

শনিবার (২ মে) দুপুরে নগরভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি সিলেট এসেছিলাম, সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় বলেছিলাম সিলেট থেকে লন্ডন যেতে সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগে।

অথচ সিলেট থেকে সড়ক পথে ঢাকা যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহানসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর খোঁজ নিয়েছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যার কারণে কাজ আটকে ছিল। সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে।

আশা করছি, দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করা যাবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।
সড়কপথের পাশাপাশি সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যত বড় করা হবে তত গাড়ি নামবে, তত ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। রাস্তা বড় করলে ফসলি জমিও নষ্ট হবে। এজন্য রেলের উন্নয়ন করতে হবে। তারা ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে, কিন্তু এটি সচল নেই। এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়। ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখেছি বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তারা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছেন। এতে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা যাবে এবং জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে।

সিলেট ওসমানী হাসপাতালকে ১২ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে।

তিনি বলেন, কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এজন্য তারা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবেন, যাদের ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন এবং কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয়, তা জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো চালু করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রাইভেটখাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চান। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও চেষ্টা চলছে।

সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনীঘাটে সিলেট নগরের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা হবে না।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিকের স্তর জমে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় স্কুলগুলোতে উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যে প্রতিশ্রুতি তারা দেশের মানুষকে দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট করতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধানকস আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেটের যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি সিলেটের সড়ক পথ উন্নয়নের কথাও বলেছেন তিনি।

শনিবার (২ মে) দুপুরে নগরভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি সিলেট এসেছিলাম, সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় বলেছিলাম সিলেট থেকে লন্ডন যেতে সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগে।

অথচ সিলেট থেকে সড়ক পথে ঢাকা যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহানসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর খোঁজ নিয়েছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যার কারণে কাজ আটকে ছিল। সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে।

আশা করছি, দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করা যাবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।
সড়কপথের পাশাপাশি সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যত বড় করা হবে তত গাড়ি নামবে, তত ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। রাস্তা বড় করলে ফসলি জমিও নষ্ট হবে। এজন্য রেলের উন্নয়ন করতে হবে। তারা ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে, কিন্তু এটি সচল নেই। এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তরুণরা এখানে কাজের সুযোগ পায়। ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে আসার সময় দেখেছি বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া সব নগরেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তারা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছেন। এতে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা যাবে এবং জলাবদ্ধতাও নিরসন হবে।

সিলেট ওসমানী হাসপাতালকে ১২ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে।

তিনি বলেন, কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এজন্য তারা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবেন, যাদের ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন এবং কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয়, তা জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো চালু করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রাইভেটখাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চান। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও চেষ্টা চলছে।

সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনীঘাটে সিলেট নগরের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা হবে না।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিকের স্তর জমে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় স্কুলগুলোতে উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যে প্রতিশ্রুতি তারা দেশের মানুষকে দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট করতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধানকস আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।