০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাজেটে স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে স্বপ্নভঙ্গের খেসারত দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় ০৬:০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা

বাজেটে স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে জনগণকে স্বপ্নভঙ্গের খেসারত দিতে হয় বলে মন্তব্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা স্বপ্ন দেখালেও বছরজুড়ে সেই স্বপ্নভঙ্গের পরিণতি জনগণকে ভোগ করতে হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর উপরে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তবে শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, ওই সফরে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। যদি পেয়ে থাকে, তাহলে তার পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, সে বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

রুমিন ফারহানা বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমরা কি কেবলমাত্র চাইতে গেছি ভিক্ষার ঝুলি হাতে, না। এমনটি কেউ আশা করেন না। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

বাজেটে স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে স্বপ্নভঙ্গের খেসারত দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

আপডেট সময় ০৬:০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাজেটে স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে জনগণকে স্বপ্নভঙ্গের খেসারত দিতে হয় বলে মন্তব্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার নানা স্বপ্ন দেখালেও বছরজুড়ে সেই স্বপ্নভঙ্গের পরিণতি জনগণকে ভোগ করতে হয়।

সোমবার (২৯ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর উপরে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আর আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তবে শুধু ঘোষিত ঘাটতিই নয়, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, ওই সফরে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। যদি পেয়ে থাকে, তাহলে তার পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, সে বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

রুমিন ফারহানা বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমরা কি কেবলমাত্র চাইতে গেছি ভিক্ষার ঝুলি হাতে, না। এমনটি কেউ আশা করেন না। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।