০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের একই পরিবারের ৪ হত্যাকাণ্ড পুলিশের বর্ণনা

নিজস্ব সংবাদ দাতা
  • আপডেট সময় ০৪:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

একই পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে

রংপুরে একই পরিবারে চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই যুকককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তারা।

এ ঘটনায় দুজন প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। আজ রবিবার রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন।

আর সিদ্ধার্থ পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গপিণাত চক্রবর্তী বাদি হয়ে গত রাতেই কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি। তাদের বাধা দিলে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে একইভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর মেয়েকে এবং সবার শেষে শিশু প্রিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা।’ দুই যুবক কিভাবে চারজনকে হত্যা করল জানতে চাইলে পুলিশ দাবি করে, দুজনই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। একে একে চারজনকে হত্যা করে তারা।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের ধারণা ছিল এটি ডাকাতির ঘটনা। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, লাশ উদ্ধারের সময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। কারণ বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থান ভাঙা ছিল। কাপড়চোপড় ও বিভিন্ন মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দাবি করে, চারজনকে হত্যার পরও ওই বাড়িতে রাত কাটায় দুই ঘাতক। পরদিন সকালে গোসল ও খাওয়া শেষে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখে তারা।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘তদন্ত ভিন্ন দিকে নিতে বাড়ির মালামাল ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে ‘ডাকাতির মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।” একই সঙ্গে আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আরো কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

গত রাতে চারজনের লাশ উদ্ধারের পর ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদেহগুলো মর্গেই আছে।

ট্যাগস

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুরের একই পরিবারের ৪ হত্যাকাণ্ড পুলিশের বর্ণনা

আপডেট সময় ০৪:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে একই পরিবারে চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই যুকককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তারা।

এ ঘটনায় দুজন প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। আজ রবিবার রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন।

আর সিদ্ধার্থ পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গপিণাত চক্রবর্তী বাদি হয়ে গত রাতেই কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি। তাদের বাধা দিলে তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে একইভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর মেয়েকে এবং সবার শেষে শিশু প্রিয়মকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা।’ দুই যুবক কিভাবে চারজনকে হত্যা করল জানতে চাইলে পুলিশ দাবি করে, দুজনই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। একে একে চারজনকে হত্যা করে তারা।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের ধারণা ছিল এটি ডাকাতির ঘটনা। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, লাশ উদ্ধারের সময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। কারণ বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থান ভাঙা ছিল। কাপড়চোপড় ও বিভিন্ন মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দাবি করে, চারজনকে হত্যার পরও ওই বাড়িতে রাত কাটায় দুই ঘাতক। পরদিন সকালে গোসল ও খাওয়া শেষে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখে তারা।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘তদন্ত ভিন্ন দিকে নিতে বাড়ির মালামাল ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে ‘ডাকাতির মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।” একই সঙ্গে আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আরো কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

গত রাতে চারজনের লাশ উদ্ধারের পর ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদেহগুলো মর্গেই আছে।